পুরান ঢাকায় চলছে সাকরাইন উৎসব

বৃহস্পতিবার,

১৫ জানুয়ারি ২০২৬,

২ মাঘ ১৪৩২

বৃহস্পতিবার,

১৫ জানুয়ারি ২০২৬,

২ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

পুরান ঢাকায় চলছে সাকরাইন উৎসব

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:২৪, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
পুরান ঢাকায় চলছে সাকরাইন উৎসব

পুরান ঢাকার জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন, যা পৌষসংক্রান্তি বা ঘুড়ি উৎসব নামেও পরিচিত। আজ বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিন। প্রতিবছর পৌষ মাসের শেষ দিনে এই সাকরাইন উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

সাকরাইন উপলক্ষে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে আতশবাজির উৎসব ও আগুন খেলা ও লেজার শো। সন্ধ্যার পর বাসাবাড়ির ছাদগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোয়। রাতে আকাশজুড়ে উড়েছে রঙ-বেরঙের ফানুস। পাশাপাশি বাসাবাড়ির ছাদ কিংবা ফাঁকা জায়গায় গান-বাজনার আয়োজনও করা হয়েছে।

সাকরাইন উৎসব ঘিরে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বাংলাবাজার, সূত্রাপুর, লালবাগ এলাকার আশপাশের বাসাবাড়ির ছাদে স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম, আলোকসজ্জা, লেজার শো ও লাইটিং। সাকরাইন উৎসব উদযাপন করতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে পুরান ঢাকায়।

সাকরাইনের মূল আকর্ষণ হলো ঘুড়ি কাটাকাটির উৎসব। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরান ঢাকার আকাশে চলছিলো ঘুড়ি কাটাকাটির উৎসব। এ উপলক্ষে শাঁখারীবাজারের দোকানগুলোতে বিভিন্ন আকার ও মানের ঘুড়ি বিক্রির দুম পড়ে। ঘুড়ির মধ্যে রয়েছে সুপারম্যান, চায়না, দাবাদার, চিলদার, রকেট, স্টার, টেক্কা, লাভসহ নানা ধরনের ঘুড়ি। একেকটি ঘুড়ি ১০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে পাওয়া যাচ্ছে। নাটাইসহ ঘুড়ির প্যাকেজের দাম ১০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া মানভেদে সুতার দাম রাখা হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এলাকাবাসী জানান, সাকরাইন উৎসবের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। বিশেষ করে এ এলাকার দোকানিদের ঘুড়ি ও ফানুস তৈরির তোড়জোড় লেগে যায়।

লালবাগের বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান মাশফী বলেন, ‘সাকরাইনের মূল আনন্দই হলো ঘুড়ি উড়ানো। ছাদে উঠে আমাদের পরিবারের সবাই মিলে ঘুড়ি উড়াই। অন্যের ঘুড়ি কেটে দেওয়াই আমাদের প্রধান কাজ। তাই অনেকগুলো ঘুড়ি কিনেছি। পাশাপাশি সাকরাইন উপলক্ষে আমাদের বাসার ছাদে গান-বাজনার আয়োজন করা হয়েছে।’

শিংটোলার বাসিন্দা রাইসা ইসলাম বলেন, ‘আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। সাকরাইন উপলক্ষে আমাদের বাসায় বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও খাবারের আয়োজন করা হয়। রাতে ছাদে গান-বাজনার ব্যবস্থা থাকে। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আমার বান্ধবীরা সাকরাইন উপলক্ষে আমাদের বাসায় বেড়াতে আসে। এটি সত্যিই অন্যরকম এক উৎসব।’

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের