প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ

রোববার,

১৮ জানুয়ারি ২০২৬,

৫ মাঘ ১৪৩২

রোববার,

১৮ জানুয়ারি ২০২৬,

৫ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:২৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করে। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দিলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে তাকে আটক করে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তার মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে থেঁতলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথা কাটাকাটি হয়।

পরে সে সেখান থেকে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।
তবে ঘটনার পর মিষ্টি বিতরণের একটি ভিডিও হাতে এসেছে কালের কণ্ঠের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মিজান এলাকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকায় তাকে মারার পর বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।  

কবিরহাট থানার ওসি মোঃ নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

তিনি আরো বলেন, নিহতের পরিবার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের