ভোলায় চুরি হওয়া তিন মাস বয়সী এক শিশুকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চ থেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় জড়িত এক নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—শিশুটিকে বিক্রি করে চুরির নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোলা সদর উপজেলা-র পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া শিশু জিদনী ইসলাম আলিফা ওই গ্রামের আব্দুর রব ও সুমাইয়া দম্পতির তৃতীয় কন্যা সন্তান।
প্রাথমিকভাবে পরিবার জানায়, শিশুটির মা সুমাইয়া বেগম স্থানীয় মালেরহাট বাজারের একটি ক্লিনিকে গেলে বোরকা পরিহিত এক নারী তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এর মধ্যে বিকেলে ঢাকাগামী এমবি দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চ থেকে শিশুটির পরিবারের কাছে ফোন আসে। হাজেরা বেগম নামে এক নারী জানান, শিশুটির মা সুমাইয়া আক্তার আমেনা বেগম নামে এক নারীর মাধ্যমে আত্মীয়ের কাছে শিশুটিকে বিক্রি করেছেন। লঞ্চের যাত্রীরা সন্দেহ হলে ওই নারীকে আটক করেন। পরে চাঁদপুরে কোস্টগার্ড শিশুটিসহ তাকে উদ্ধার করে।
এদিকে শিশুটির বাবা আব্দুর রব ও মা সুমাইয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয় ভোলা সদর মডেল থানা।
পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করা হয়। এরপর বিষয়টি আড়াল করতে চুরির নাটক সাজানো হয় বলে অভিযোগ উঠে।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম জানান, শুরুতে চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

