পদ্মায় বাসডুবিতে বিলীন ঈদ আনন্দ

শুক্রবার,

২৭ মার্চ ২০২৬,

১৩ চৈত্র ১৪৩২

শুক্রবার,

২৭ মার্চ ২০২৬,

১৩ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

পদ্মায় বাসডুবিতে বিলীন ঈদ আনন্দ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৫৬, ২৭ মার্চ ২০২৬

Google News
পদ্মায় বাসডুবিতে বিলীন ঈদ আনন্দ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ছিল এক নীরব শোকের পরিবেশ। আগের দিন বুধবার পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনার স্থানটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয়রা। বেশিরভাগই ছিলেন নিঃশব্দ—শোকাহত ও বিমর্ষ (সংগৃহীত ছবি)

ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন বাসটির অধিকাংশ যাত্রী। কিন্তু দুর্ঘটনায় তাদের সেই আনন্দমুখর যাত্রা পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে চারজন ছেলে শিশু, তিনজন কন্যাশিশু, ১১ জন নারী ও আটজন পুরুষ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা রহমত প্রামাণিক বলেন, এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা দৌলতদিয়া ঘাটে আগে কখনো ঘটেনি। একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু তাদের কাছে অকল্পনীয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।

এ দিকে দুর্ঘটনায় আহত ১১ জন যাত্রী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল দুপুর পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজ যাত্রীর খোঁজে কেউ আসেননি। ফলে দুপুর ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং তারা কাজ শুরু করেছে। ফেরিতে থাকা এক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দ্রুতগতিতে বাসটি ফেরিতে তুলতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাকতে পারেন।

রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন জানান, বাসটি যাত্রাবাহী অবস্থায় কাউন্টার ছেড়েছিল এবং এতে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটির হেল্পার ও কন্ডাক্টর প্রাণে বেঁচে গেলেও চালক আরমান খান নিহত হন। তার মরদেহ গতকাল সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন। অনেক পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, যা শোককে আরও গভীর করেছে।

দুর্ঘটনাস্থলটি নদীর গভীর এলাকায় হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে শুরু থেকেই জটিলতা দেখা দেয়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। তবে রাতের ঝোড়ো বৃষ্টির কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানান, নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিহতদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণের পর তাদের পরিবারকে স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ দিকে রাজবাড়ীতে নিহত জহুরা অন্তি ও তাঁর স্বামী কাজী সাইফের জানাজা শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম অংশ নেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতির কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

অন্য দিকে কুষ্টিয়ায় নিহত চার যাত্রীর মধ্যে তিনজনের দাফন ও একজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, খোকসা উপজেলায় নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্যের সব কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের