কফিনবন্দি হয়ে দুই প্রবাসীর লাশ ফিরল সাতক্ষীরায়

রোববার,

০৭ জুন ২০২৬,

২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রোববার,

০৭ জুন ২০২৬,

২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Radio Today News

কফিনবন্দি হয়ে দুই প্রবাসীর লাশ ফিরল সাতক্ষীরায় 

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ৭ জুন ২০২৬

Google News
কফিনবন্দি হয়ে দুই প্রবাসীর লাশ ফিরল সাতক্ষীরায় 

কফিনবন্দি হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরলেন লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম। রোববার সকালে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। শেষবারের মতো লাশ দেখতে শত শত মানুষ দুজনের বাড়িতে ভিড় জমান। এর আগে শনিবার গভীর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় দুই প্রবাসীর লাশ। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাদের লাশ গ্রহণ করে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিহতদের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ বাসভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম (২০)। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৭ দিন পর তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হলো। 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, গতকাল জোহরের নামাজ শেষে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, শফিকুলের মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে তাঁর পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন শফিক। বৃদ্ধ মা বাবা, স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে রেখে চিরবিদায় নেওয়া শফিকুলের অনুপস্থিতিতে পরিবারটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং দুই মেয়ের জীবন গঠনে সরকারের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।

শফিকুলের বাবা আফসার আলী বলেন, ছেলে শফিকুল পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিল। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা। 

নাহিদের বাবা আব্দুল কাদের জানান, তাঁর বড় ছেলে নাহিদ অভাবের কারণে এসএসসি পাসের পর সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। তবে ছেলে যে লাশ হয়ে ফিরবে, সেটা কখনও ভাবিনি।

খুলনা প্রবাসীকল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. খালেদুর রহমান বলেন, লাশ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই দাফন-কাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। বৈধভাবে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে তিন লাখ টাকা এবং জীবন বীমা বাবদ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলামের পরিবার নিয়ম অনুযায়ী মোট ১৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের