সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এক পল্লীতে তাবলীগ জামাতের বয়ানকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের তেলিকোনা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময়। তেলিকোনা জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান হাবিব জুমার নামাজের পূর্বে বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের আহমদপন্থির (জোবায়ের গ্রুপ) পক্ষে একটি বয়ান পেশ করেন। ওই সময় মসজিদের ভেতরেই তেলিকোনা গ্রামের মজর উল্লাহর ছেলে সিরাজ আলী উক্ত বয়ানের তীব্র আপত্তি জানান এবং বয়ানের পক্ষে যুক্তি দাবি করেন।
এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ওই দিনই মসজিদের ভেতর একই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ইয়াহিয়াপক্ষ এবং শুকুর উল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ ইয়ামিন সুনুপক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। শুক্রবারের সেই ক্ষোভ ও বিরোধের জের ধরে আজ শনিবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একপর্যায়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং রণক্ষেত্রে লিপ্ত হয়। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল ইসলাম জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি; তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

