কিউবা, অস্ট্রিয়া, গাম্বিয়া, লাওস এবং কোট দিভোয়ারসহ আটটি দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চীনের বন্দরনগরী থিয়ানচিন সফর করে। তারা এখানকার সবুজ উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং জনকল্যাণ উন্নয়নের প্রচেষ্টার উচ্চ প্রশংসা করেন।
চার দিনব্যাপী এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল থিয়ানচিন বন্দরের স্মার্ট টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে চীনের জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরা। সফরটি বুধবার শেষ হয়।
থিয়ানচিন বন্দরের পেইচিয়াং বন্দর এলাকার সি বার্থ বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ও কার্বন-নিরপেক্ষ কনটেইনার টার্মিনাল হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। সমন্বিত বায়ু-সৌর-শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত এই টার্মিনাল ১০০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং কার্বন-নিরপেক্ষতার সনদ অর্জন করেছে।
টার্মিনালটির কার্যক্রম সমন্বিত ৫জি যোগাযোগব্যবস্থা, পেইতৌ স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংচালিত যানবাহনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা নির্গমন কমানোর পাশাপাশি কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই বুদ্ধিমান ব্যবস্থা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় ২৬.২ শতাংশ কমিয়েছে এবং জাহাজ নোঙর করার দক্ষতা ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে।
গাম্বিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বি. এস. জালো বলেন, 'শূন্য-নির্গমন কার্যক্রম বজায় রেখেও টার্মিনালটির পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষমতা তাকে মুগ্ধ করেছে।'
অস্ট্রিয়ান লেখক রবার্ট ম্যাগ ফিৎজথাম বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে মানুষ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন নদী ও নির্মল পরিবেশের আকাঙ্ক্ষা করেছে, যা মানুষের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।'
প্রতিনিধিদলটি বিনহাই নতুন এলাকায় অবস্থিত সিনো-সিঙ্গাপুর থিয়ানচিন ইকো সিটি পরিদর্শন করে। সেখানে বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য স্মার্ট প্রশাসন ও সবুজ নগর পরিকল্পনাকে একীভূত করা হয়েছে।
দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিশ্বের প্রথম পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে এই প্রকল্পটি টেকসই নগর উন্নয়নের সমাধান অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হয়েছিল। এক কোটি ২০ লাখ বর্গমিটারেরও বেশি সবুজায়ন এলাকা এবং বিগ ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল প্রশাসনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ইকো-সিটি পরিবেশগত সূচকগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং একই সঙ্গে দক্ষ জনসেবা প্রদান করে।
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার বিভাগের বিশেষজ্ঞ দাইরন ভালিদো এস্কেলোনা বলেন, এই সফরগুলো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

