বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। আজ (সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৭১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। এটি গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন দাম। খবর রয়টার্সের।
বিশ্ববাজারে আগস্টের শুরুতে ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৫ ডলার। এরপর দাম বেড়ে ১০ সেপ্টেম্বর ১০৭ ডলারে ৬৩ সেন্টে পৌঁছায়। ১৮ সেপ্টেম্বর তা কমে ১০৩ ডলার ৮৭ সেন্টে দাঁড়ায়। সর্বশেষ আরও কমে দাম প্রায় ১০২ ডলারে নেমেছে।
১৮ সেপ্টেম্বরের ১০৩ ডলার ৮৭ সেন্টের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি দাম কমেছে ১ ডলার ৮৭ সেন্ট। এক ব্যারেলে প্রায় ১৫৯ লিটার তেল থাকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাবে, প্রতি লিটার ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে প্রায় ১ টাকা ৩৩ পয়সা।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘এ সপ্তাহে ইরান যুদ্ধ নিরসনে কূটনৈতিক পথ খুলতে পারে, এমন আশায় তেলের দামের বাড়তি ঝুঁকি কিছুটা কমছে। তবে এ আশা শেষ পর্যন্ত কতটা পূরণ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে এমন কূটনৈতিক আশার সঞ্চার হয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হুমকি-পাল্টা হুমকি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে আসা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত।
এর আগে, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজাই জানান, আলোচনার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্তাবলি এরই মধ্যে হস্তান্তর করেছে ইরান।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গত শনিবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর প্রধান তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার পর সৌদি আরবের আহ্বানে হুতিদের আক্রমণ বন্ধে ভূমিকা রাখতে ইরানের প্রতি অনুরোধ জানায় চীন।
হামলার কারণে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে সমস্যা দেখা দেয়ায় ইয়ানবুর পরিবর্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাড়িয়েছে সৌদি আরামকো। এর ফলে আগস্টে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেলে নেমে যাওয়ার পর চলতি সেপ্টেম্বরে তা আবার দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপিমরগ্যান জানিয়েছে, পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক তেল সরবরাহ এখনো শক্তিশালী রয়েছে। গত ১০ দিনে এ অঞ্চল থেকে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে।
স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল পরিবহন দৈনিক গড়ে ২৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত আগস্টে এ পরিমাণ ছিল মাত্র ৭ লাখ ব্যারেল।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

