স্বজনপোষণ কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক কঠোর বাস্তবতা

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন

স্বজনপোষণ কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক কঠোর বাস্তবতা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:২৬, ২৯ মার্চ ২০২৬

Google News
স্বজনপোষণ কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক কঠোর বাস্তবতা

বলিউডে স্বজনপোষণ বা ‘নেপোটিজম’-এর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন এই ইস্যুতে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। বহিরাগত হিসেবে বলিউডে নিজের জায়গা করে নেওয়ার লড়াই এবং বারবার তারকা সন্তানদের কারণে সুযোগ হারানোর যন্ত্রণার কথা তিনি অকপটে প্রকাশ করেছেন।

কৃতির মতে, স্বজনপোষণ কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক কঠোর বাস্তবতা।

তিনি বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন কোনো সিনেমায় আমাকে প্রায় চূড়ান্তভাবে নিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে কোনো স্টার কিড-এর জন্য আমাকে বাদ দেওয়া হয়।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, এই বৈষম্য শুধু বলিউডের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি চোখে পড়ে। তবে গ্ল্যামার জগতের কারণে বিষয়টি বেশি স্পষ্টভাবে ধরা দেয়। কৃতি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, একজন বহিরাগত হিসেবে তাঁকে বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে, যেখানে স্টার কিডদের জন্য সুযোগের পথ অনেক বেশি মসৃণ। কেন এই বৈষম্য? কৃতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন তারকাসন্তান খুব সহজেই বড় বাজেটের সিনেমার প্রস্তাব পান। 

অন্যদিকে কৃতির মতো বহিরাগতদের জন্য তা অর্জন করা বছরের পর বছর অপেক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলো পরিচিত মুখ বা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানদের নিয়েই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। একজন আউটসাইডারের জন্য একটি ফ্লপ সিনেমা তাঁর ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে। আবার স্টার কিডরা বারবার সুযোগ পেতে থাকেন। তবুও বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও কৃতি হাল ছাড়েননি।

‘বরেলি কি বরফি’, ‘মিমি’ বা ‘তেরি বাতো মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’র মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে প্রতিভাই শেষ কথা। বিশেষ করে ‘মিমি’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃতি মনে করেন, নেপোটিজম থাকলেও কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তিনি চান, ইন্ডাস্ট্রিতে মেধার ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হোক, শুধু বংশ পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

কৃতির এই স্বীকারোক্তি বলিউডের অন্ধকার দিকটি সামনে এনেছে। তবুও তাঁর লড়াই বর্তমান প্রজন্মের হাজারও অভিনেতা-অভিনেত্রীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। কৃতি বিশ্বাস করেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, এবং দর্শকরা এখন শুধু অভিনয় দেখে শিল্পীকে বিচার করছেন। সূত্র: হাঙ্গামা এক্সপ্রেস ও নিউজ ১৮

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের