বুধবার,

২০ অক্টোবর ২০২১,

৫ কার্তিক ১৪২৮

পরীক্ষামূলক প্রকাশ

বুধবার,

২০ অক্টোবর ২০২১,

৫ কার্তিক ১৪২৮

Radio Today News

সাধারণ জেলে থেকে রাতারাতি কোটিপতি!

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:২১, ১২ অক্টোবর ২০২১

আপডেট: ২৩:২১, ১২ অক্টোবর ২০২১

সাধারণ জেলে থেকে রাতারাতি কোটিপতি!

ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ একজন জেলে থেকে রাতারাতি হয়ে গেলেন কোটিপতি। এমন তথ্যে কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। এও কি সম্ভব? তাও এক দুই কোটি নয়, প্রায় ১১ কোটি টাকা বলে কথা। জেলে থেকে রাতারাতি হয়ে কোটিপতি বনে যাওয়ার খবর ছাপা হয় হংকংয়ের একটি ইংরেজি দৈনিকে।

থাইল্যান্ডের জেলে নারং গিয়েছিলেন সমুদ্রে মাছ ধরতে। ফেরার পথে সুরাথ থানি প্রদেশের নিয়োম সৈকতে একটি পাথরের মতো একটি বস্তু তার চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে এতে মোমের মতো কিছু উপাদান যখন দেখেন তখন তিনি বুঝতে পারলেন বস্তুটি আসলে তিমি মাছের বমি।

এটি তিনি গেলেন প্রিন্স অফ সোংক্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানকার বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর পর নারং জানলেন, তার খুঁজে পাওয়া জিনিসের দাম প্রায় ১১ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা তাকে বললেন, তিনি যা খুঁজে পেয়েছেন এর নাম হচ্ছে অ্যামবারগ্রিস। স্পার্ম জাতীয় তিমির বমি যা জমে শক্ত হয়ে গিয়েছে।

হিস্ট্রি অফ অ্যাম্বারগ্রিস বইয়ের লেখক ক্রিস্টোফার কেম্প অবশ্য একে তিমির বমি বলতে রাজি নন। কারণ, স্পার্ম তিমি সারা দিনে হাজার হাজার স্কুইড বিক অর্থাৎ অক্টোপাস জাতীয় খেয়ে থাকে। মাঝে মধ্যে সেই সবই পাকস্থলি ও অন্ত্রের মাঝের জায়গায় গিয়ে জমে। এবং সেই থেকে অ্যাম্বারগ্রিসের জন্ম হয়। অনেক জটিল প্রক্রিয়ায় এই ফসল ফলে। তার পর তিমি তা বার করে দেয় মুখ দিয়ে। 

সমুদ্রের জলে ভেসে আসে এই দুর্মূল্য বস্তু। তাই ফ্লোটিং গোল্ড বলে একে। আসল স্বর্ণের চাইতেও এর দাম নাকি বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো স্পার্ম তিমির এই বমি এত দামি কেনো? তো চলুন সে প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি আমরা। 

তিমির উপরের ঠোঁট থেকে মাথা পর্যন্ত জায়গায় স্পার্ম অয়েল জন্মায়। তিমি মরে গেলে বা মেরে ফেলে বার করে নেওয়া হয় স্পার্ম অয়েল। স্পার্ম তিমি বিরল প্রজাতির, সংরক্ষিত। শিকারিদের টার্গেটও। কারণটাও স্পষ্ট, ওই অ্যাম্বারগ্রিস এবং এই স্পার্ম অয়েল। অ্যাম্বারগ্রিস ব্যবহার করা হয় সুগন্ধী নির্মাণে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এক কেজি অ্যাম্বারগ্রিসের দাম প্রায় এক কোটি টাকা। সুগন্ধীর বাজারে এর গগনচুম্বী চাহিদার জন্যই এমন দাম। দুবাইয়ের মতো কয়েকটি দেশে সুগন্ধীর বিশাল বাজার। অ্যাম্বারগ্রিস সেখানে চাই-ই চাই। এর কারন কস্তুরির মত সুগন্ধ তৈরি করে অ্যাম্বারগ্রিস। এর বাইরে বেশ কিছু পুরনো ওষুধ তৈরিতেও অ্যাম্বারগ্রিস কাজে লাগে বলে জানা যাচ্ছে।

একদিকে দামি জিনিস, অন্যদিকে দুর্লভ। তাই এ নিয়ে হরদম কালোবাজারি চলে দেশে দেশে। বিশেষ করে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ওঁত থাকে চোরাকারবারিরা। বিরল প্রজাতির এ তিমি হত্যা যদিওবা নিষিদ্ধ তবে এর পেট থেকে অ্যাম্বারগ্রিস বের করে নেওয়ার চক্র সব সময়ই সক্রিয়।
 

রেডিওটুডে নিউজ/ইকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের