২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন জমে উঠেছে, আর এই ফুটবল উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে চীনের সিনেমা হলগুলোতে। ঘরের মাঠে বসে খেলা দেখার চেয়ে বড় পর্দায় প্রিয় দলের লড়াই উপভোগ করতে সিনেমা হলগুলোতে ভিড় করছেন হাজারো দর্শক।
রাজধানী বেইজিংয়ের একটি সিনেমা হলে প্রায় ৪০০ আসনের সবকটিই পূর্ণ ছিল। দর্শকরা গভীর মনোযোগ দিয়ে খেলা উপভোগ করছেন, আর গোল হওয়ার মুহূর্তগুলোতে গোটা হলজুড়ে গর্জে উঠছে উল্লাস।
বিশ্বকাপ দেখার এই অভিজ্ঞতায় অঞ্চলভেদে যোগ হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আমেজ। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান প্রদেশের ছেংতু শহরে দর্শকদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। সেখানে ড্রামের তালে গান এবং চিৎকারের পাশাপাশি বড় পর্দার সামনে সিছুয়ান অপেরার ঐতিহ্যবাহী 'ফেস-চেঞ্জিং' পারফর্মারদের পরিবেশনা দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিয়েছে।
দেশটির অন্যান্য শহরেও এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাড়ছে বাণিজ্যিক তৎপরতা। পূর্ব চীনের ফুচিয়ান প্রদেশের ফুচৌ শহরের সিনেমা হলগুলো বিশ্বকাপের বিশেষ ভিউয়িং প্যাকেজ এবং পানীয়ের ব্যবস্থা করেছে। পর্যটন ও ভোক্তা খাতের ভর্তুকি এই আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সুদূর দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লাসা শহরের ফুটবল প্রেমীরাও এখন ঘরে বসেই বড় পর্দায় বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারছেন।
প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হলেও, আধুনিক সিনেমা হল প্রযুক্তি এবং নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রচার সিগন্যালের মাধ্যমে সেখানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে ফুটবলের প্রতিটি মুহূর্ত। লাসার এক ফুটবল ভক্ত জানান, "সিনেমা হলে বসে বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা এটিই আমার প্রথম, আর তা সত্যিই অসাধারণ।"
চায়না ফিল্ম গ্রুপ এবং হুয়াশা ফিল্মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত চীনের ৩১টি প্রাদেশিক পর্যায়ের অঞ্চলের ২৫৫টি শহরে ২৮ হাজারেরও বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

