চীনের ইয়েলো নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ গত ৬ হাজার ২০০ বছর ধরে এক অসাধারণ জেনেটিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে। এই মানুষদের পূর্বপুরুষদের ডিএনএ সরাসরি যুক্ত প্রাচীন 'ইয়াংশাও' সংস্কৃতির সাথে। ফুতান ইউনিভার্সিটি, হ্যনান প্রভিন্সিয়াল ইনস্টিটিউট অব কালচারাল হেরিটেজ অ্যান্ড আর্কিওলজি এবং চেংচৌ ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো। সম্প্রতি 'ন্যাশনাল সায়েন্স রিভিউ' জার্নালে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
১৯২১ সালে হ্যনান প্রদেশের মিয়ানছি কাউন্টির ইয়াংশাও গ্রামে প্রথম আবিষ্কৃত হয় এই সংস্কৃতি। আজ থেকে প্রায় ৭ হাজার থেকে ৫ হাজার বছর আগের এই ইয়াংশাও সংস্কৃতি চীনের সবচেয়ে বিস্তৃত নিওলিথিক বা নব্যপ্রস্তর যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এতদিন পর্যন্ত ইয়াংশাও সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল পশ্চিম হেনান থেকে পর্যাপ্ত জিনোমিক ডেটা না থাকায় ওই অঞ্চলের জনসংখ্যার বিবর্তন, অভিবাসন এবং মিথস্ক্রিয়া নিয়ে গবেষকদের কাছে তথ্যের সীমাবদ্ধতা ছিল।
ফুতান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং গবেষণার অন্যতম লেখক ওয়াং ছুয়ানছাও জানান, তারা আটটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে ১১২টি উচ্চমানের প্রাচীন মানব জিনোম সংগ্রহ করে গভীর বিশ্লেষণ করেছেন। এই জিনোমগুলো ৬ হাজার ১০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী, যা প্রায় ৬ হাজার ২০০ বছর আগের থেকে শুরু করে ১০০ বছর আগের পর্যন্ত বিস্তৃত।
হ্যনান প্রভিন্সিয়াল ইনস্টিটিউট অব কালচারাল হেরিটেজ অ্যান্ড আর্কিওলজির উপ-পরিচালক ওয়েই শিংথাও বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরেই হলুদ নদী অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল। নতুন এই জিনোমিক গবেষণার মাধ্যমে সেই তত্ত্বে সিলমোহর পড়ল। এটি সরাসরি প্রমাণ করে যে, গত ৬ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে হলুদ নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলের মানুষের জেনেটিক গঠনের প্রধান উপাদান হিসেবে ইয়াংশাও-সম্পর্কিত বংশধারা প্রাধান্য বজায় রেখেছে।
গবেষণার আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো, ঐতিহাসিকভাবে নানা যাযাবর গোষ্ঠী মধ্য সমভূমিতে আসার তথ্য থাকলেও, নতুন এই গবেষণায় ওই মূল জনগোষ্ঠীর ওপর যাযাবরদের কোনো উল্লেখযোগ্য জেনেটিক প্রভাব দেখা যায়নি।
অধ্যাপক ওয়াং ব্যাখ্যা করেন, এর মানে হলো, যাযাবর গোষ্ঠীগুলোর মধ্য সমভূমিতে প্রবেশ মূলত রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক একীভূতকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। যদি কখনো আন্তঃবিবাহের ঘটনাও ঘটে থাকে, তবে নবাগতরা দ্রুত বিশাল স্থানীয় জনসংখ্যার সাথে মিশে গেছে এবং তাদের নিজস্ব জেনেটিক স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেছে।"
এই গবেষণার ফলাফল কেবল চীনের ইতিহাসকেই সমৃদ্ধ করেনি বরং প্রাচীন জনগোষ্ঠীর অভিবাসন এবং জেনেটিক বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে নতুন এক পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

