সোমবার,

২৭ জুন ২০২২,

১৩ আষাঢ় ১৪২৯

সোমবার,

২৭ জুন ২০২২,

১৩ আষাঢ় ১৪২৯

Radio Today News

ইরাকে ৩,৪০০ বছরের পুরনো শহরের সন্ধান 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ২১ জুন ২০২২

ইরাকে ৩,৪০০ বছরের পুরনো শহরের সন্ধান 

ইরাকে প্রায় ৩ হাজার ৪’শ বছরের পুরনো একটি শহরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন দেশটির বাসিন্দারা। বিগত কয়েক বছরের টানা খরায় ইরাকের অধিকাংশ জলাধারই শুকিয়ে গেছে। পানির সন্ধানে দূর-দূরান্তে যেতে বাধ্য হচ্ছে ইরাকের মসুল ড্যামের অধিবাসীরা। ইরাকের সবচেয়ে বড় জলাধার মসুল ড্যাম জলাধারের পানিও উল্লে­খযোগ্য পরিমাণে শুকিয়ে গেছে। ফলে অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে এসেছে জলাধারের তলদেশ। আর এই উন্মুক্ত জলাধারের তলদেশেই দেখা পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৪’শ বছরের পুরোনো ওই শহরের।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, আজ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ বছর আগে অর্থাৎ ১৩৫০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে বড় ধরণের কোনো ভূমিকম্পের ফলে ধ্বংস হয়েছিলো শহরটি। গবেষকরা বলছেন, ওই শহরটি মিসরীয় শাসক ফারাও তুতেনখামেনের শাসনামলের সমসাময়িক। প্রত্নতাত্তিকদের একটি দল বিশ্বাস করেন, এটি অ্যাসেরিয় সভ্যতার শহর; যা মধ্য অ্যাসেরিয় বা মিত্তানি সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। বর্তমান ইরাকের উত্তরাংশ এবং বর্তমান সিরিয়া শাসন করত ব্রোঞ্জ যুগের এই সাম্রাজ্য। 

শহরের উত্তর-পূর্ব পরিধি বিস্তৃত ছিল বর্তমান সিরিয়া পর্যন্ত। গবেষকরা ধ্বংসাবশেষের মধ্যে টাওয়ার, একটি স্মারক প্রাসাদ এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি বড় ভবন পেয়েছেন। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই অঞ্চলটিকে প্রাচীন শহর জাখিকু বলে মনে করছেন, যা একসময় অন্যতম রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল। 

নগরের বড় বড় দুর্গের যে প্রাচীর রোদে শুকানো মাটির ইট দিয়ে নির্মিত হয়েছিল তা সত্ত্বেও আশ্চর্যজনকভাবে ভালভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ১৩৫০ সালের দিকে এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের জেরে ব্রোঞ্জ যুগের শহরটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। খননকালে পাঁচটি সিরামিক পাত্রও পাওয়া যায় যাতে ১০০ টিরও বেশি ট্যাবলেট কিউনিফর্ম লিপিতে খোদাই করা ছিল। জার্মানির টিউবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ার ইস্টার্ন আর্কিওলজি বিভাগের পরিচালক এবং গবেষণা দলের সদস্য পিটার ফাল্জনার বলেছেন, কাদামাটি দিয়ে তৈরি কিউনিফর্ম ট্যাবলেটগুলি এত দশক ধরে পানির নিচে টিকে ছিল। ফসল শুকিয়ে না যাওয়ার জন্য ডিসেম্বরের শুরুতে মসুল বাঁধের পানির স্তর নিচে নামানোর পর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি উন্মোচিত হয়। ইরাকের এই অঞ্চলটি এমনিতেই কম বৃষ্টিপাত এবং চলমান খরার দ্বারা জর্জরিত। জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে, প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রাচীন শহরটির যতটা সম্ভব মানচিত্র তৈরি করতে এবং খনন করতে দৌড়েছিলেন। 

১৯৮০-এর দশকে মসুল বাঁধ নির্মাণের পর থেকে এই সাইটটি ক্রমাগত পানির নিচে চলে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মসুল জলাধারের জলের স্তর অনেকটাই নেমে যায়, তারপরেই গবেষকরা এই হারিয়ে যাওয়া শহরের সন্ধান পান। প্রাচীন শহরটির সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধ্বংসাবশেষটিকে প্লাস্টিকের আবরণ দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন এবং স্থানটিকে নুড়ি দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছিলেন যাতে কাদামাটির দেয়াল রক্ষা করা যায়। তবে গবেষকরা চিন্তিত কারণ ফেব্রুয়ারী থেকে বাঁধের পানির স্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং শহরটি এখন আবার ডুবে গেছে। বাঁধের পানি আবার কবে নামবে এবং জেগে উঠবে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস তা এখন সময়ের ওপর নির্ভর করছে বলে জানাচ্ছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের