বাংলাদেশ সফর শেষে পাকিস্তানকে নিয়ে যা বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শনিবার,

০৩ জানুয়ারি ২০২৬,

২০ পৌষ ১৪৩২

শনিবার,

০৩ জানুয়ারি ২০২৬,

২০ পৌষ ১৪৩২

Radio Today News

বাংলাদেশ সফর শেষে পাকিস্তানকে নিয়ে যা বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:১৫, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ০৮:১৬, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
বাংলাদেশ সফর শেষে পাকিস্তানকে নিয়ে যা বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেশী পেয়েছি। যদি প্রতিবেশী ভালো হয় বা অন্তত ক্ষতিকর না হয়, তবে আমাদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো তাদের সাহায্য করা। ভারত দেশ হিসেবে সেটাই করে।’

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ভেঙে ভারত পশ্চিমমুখী নদীগুলোর পানির ওপর দখলদারি কায়েম করতে চাইলে কোনো অবস্থাতেই তা বরদাশত করা হবে না। শুক্রবার তার জবাব দিয়েছেন জয়শঙ্কর।

শুক্রবার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজের শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের কী করা উচিত বা উচিত নয়, তা কেউ বলে দিতে পারে না।’ তাঁর এ বক্তব্য মূলত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে লস্কর-ই-তৈয়বা সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে ভারত পাকিস্তান ও কাশ্মীরে হামলা চালায়।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘আপনার খারাপ প্রতিবেশীও থাকতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের তা আছে। পশ্চিমের প্রতিবেশীর দিকে তাকালে দেখা যায়, কোনো দেশ যদি জেনেশুনে এবং বারবার সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জনগণকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের আছে।’

পাকিস্তানের মাটি থেকে জয়শঙ্করকে চিঠি
বালুচ নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মির ইয়ার বালুচ চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চীন বেলুচিস্তান অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে লেখা খোলা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে বেলুচিস্তান কয়েক দশক ধরে দমন-পীড়ন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।

২০২৫ সালের মে মাসে বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মির বালুচ এখন ঘোষণা করেছেন, ‘রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান’, ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহে ‘বেলুচিস্তান গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাটিক উইক’ পালন করবে। এর মাধ্যমে তারা সরাসরি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে।

নববর্ষের বার্তায় এই বালুচ নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০২৫ সালে গৃহীত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসা করেন। তিনি হিংলাজ মাতা মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানের কথা উল্লেখ করে দুই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক সংযোগের কথা মনে করিয়ে দেন।

মির বালুচ শান্তি, সমৃদ্ধি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি তাঁর অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বেলুচিস্তানের মানুষ ৭৯ বছর ধরে পাকিস্তানের দখলদারিত্ব ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শিকার। এখন সময় এসেছে এই সমস্যাকে গোড়া থেকে নির্মূল করে আমাদের জাতির স্থায়ী শান্তি ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার।’

তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘বেলুচিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা না হলে কয়েক মাসের মধ্যে চীন এখানে সেনা মোতায়েন করতে পারে। আর তা ভারত ও বেলুচিস্তান উভয়ের জন্য হুমকি ও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’ চীন ও পাকিস্তান সামরিক সম্প্রসারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের