ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত। খবর: রয়টার্স
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন ইরানে কয়েক দিন ধরে চলা অস্থিরতায় অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই বিক্ষোভকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। সেই অভিযানে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক নেতৃত্ব লক্ষ্যবস্তু হয়।
ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের ‘দুঃসাহসিকতার’ দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
এদিকে পশ্চিম ইরানে, যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর এসেছে, সেখানকার এক স্থানীয় কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যেকোনো অস্থিরতা বা বেআইনি সমাবেশ “কঠোরভাবে এবং বিনা ছাড়ে” দমন করা হবে।
শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিকে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত আমির-সাইদ ইরাভানি ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানাতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। চিঠিতে তিনি বলেন, “ইরান তার অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে এবং আনুপাতিকভাবে প্রয়োগ করবে। এই অবৈধ হুমকি এবং পরবর্তীতে এর ফলে সম্ভাব্য যেকোনো উত্তেজনার সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রের।”
মূলত তীব্র মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আগের কিছু আন্দোলনের তুলনায় ছোট হলেও তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

