ভারত সফররত জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মির্জ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দিল্লির মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি জানুয়ারির মধ্যেই সই হতে পারে।
আহমেদাবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক বৈঠকের পরে মি. মির্জ জানিয়েছেন যে জানুয়ারির মধ্যেই যদি মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যায়, তাহলে এমাসের শেষের দিকে ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টরা জানুয়ারির শেষ দিকে ভারত সফরে আসবেন ওই চুক্তি সই করতে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এবছরের মধ্যে শেষ হবে, এমনটাই ধারণা করা হয়েছিল। জার্মান সরকারের সূত্র উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে যে মি. মোদীর সঙ্গে মি. মির্জের দীর্ঘ আলোচনার পরে এখন গভীরভাবে আশা করা হচ্ছে যে জানুয়ারির মধ্যেই হয়ত চুক্তি সই হয়ে যাবে।
একটি পৃথক অনুষ্ঠানে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও মন্তব্য করেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে জার্মানির চ্যান্সেলর বলেছেন যে বিশ্ব এখন “দুর্ভাগ্যজনক সংরক্ষণবাদের পুনরুত্থানের” মধ্যে বাস করছে।
তিনি কোনও দেশের নাম না করলেও ইঙ্গিতটা ওয়াশিংটনের দিকেই বলে মনে করা হচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে মি. মির্জ বলেছেন, “আমরা এমন এক বৈশ্বিক পরিবেশের পক্ষে সওয়াল করি যেখানে আমরা স্বাধীন ও নিরাপদ ভাবে বাঁচতে পারব। আমরা যখন কথা বলছি, সেই সময়েই ক্ষমতার রাজনীতি এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বদলিয়ে যাচ্ছে।
“এই বদলের সব থেকে কঠিন ফল সম্ভবত দেখা যাচ্ছে ইউক্রেনের ওপরে রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে,” মন্তব্য জার্মানির চ্যান্সেলরের।
অন্যদিকে মি. মোদী বলেছেন যে যৌথভাবে ভারত আর জার্মানি ই-মোবিলিটি থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, খাদ্য, শিক্ষা নানা বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারে। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতে ক্যাম্পাস খোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তার কথায়, “জার্মানির শিল্প খাতের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতায় বৃদ্ধি আনার জন্য ভারতের প্রতিভার ভাণ্ডার রয়েছে। জার্মান সংস্থাগুলিকে আমরা উৎসাহ দেব যাতে তারা ভারতের প্রতিভার পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারে।“
পরিবেশ, শক্তিখাত, নগরোন্নয়ন ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশ নতুন প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে।
দুই দেশের সংস্থাগুলি ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’-এর ব্যাপারে যে সুবৃহৎ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে, তা ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতের ‘গেম-চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন মি. মোদী।
সামরিক-শিল্পখাতে কীভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায়, সেব্যাপারেও একটা দিশা নির্দেশনা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

