গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন ট্রাম্প

শনিবার,

১৭ জানুয়ারি ২০২৬,

৪ মাঘ ১৪৩২

শনিবার,

১৭ জানুয়ারি ২০২৬,

৪ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:২২, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন ট্রাম্প

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি প্রতিষ্ঠা পর্ষদ গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পর্ষদের সভাপতি তিনি নিজেই। পর্ষদের তত্ত্বাবধানে গত বৃহস্পতিবার ১৫ সদস্যের টেকনোক্রেটিক কমিটি গঠন করা হয়, যেটি গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে। এ কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে উপত্যকার নিয়ন্ত্রক সংগঠন হামাস। এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা এগিয়ে নিতে হামাসসহ ফিলিস্তিনের অন্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা মিসরের রাজধানী কায়রোতে রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, ট্রাম্প নিজেই শান্তি প্রতিষ্ঠা পর্ষদ গঠনের খবরটি জানান। গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয়েছে। এ ঘোষণা দেওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। বোর্ডের সদস্যদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এটি যে কোনো সময় বা যে কোনো স্থানে গঠিত বোর্ডগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ।

বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ও ফিলিস্তিনি হতাহতের মধ্যে শান্তি পর্ষদের তত্ত্বাবধানে নতুন কমিটি গঠন করা হলো। ইসরায়েল ক্রমেই গাজার আরও বেশি ভূমি দখল করে চলেছে। স্যাটেলাইট ছবির বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার কথিত হলুদ রেখা থেকে আরও গভীরে পৌঁছে গেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এর আগে গত বুধবার ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ ঘোষণা করেন।

নতুন কমিটি প্রসঙ্গে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম বলেন, ‘কমিটি গঠন সঠিক পদক্ষেপ। যুদ্ধবিরতি সুসংহত করা, যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ, বিপর্যয়কর মানবিক সংকট মোকাবিলা ও ব্যাপক পুনর্গঠনের প্রস্তুতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে উপত্যকায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্গঠন ও দৈনন্দিন শাসনের সঙ্গে জড়িত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোপ্রধানের উপদেষ্টা তাহের আল-নুনু আলজাজিরাকে বলেন, কায়রোতে আলোচনায় রাফা ক্রসিং আবার চালু, সীমান্তে মিসর অংশে থাকা সহায়তার অবাধ প্রবেশ ও ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিতের ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হামাসকে ‘গাজায় শান্তি এবং স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য মধ্যস্থতাকারী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে’। তবে আল-নুনুর অভিযোগ, ‘ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। অথচ হামাস ক্রসিং খুলে দেওয়া, সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া ও গাজা উপত্যকা থেকে দখলদার বাহিনীকে প্রত্যাহার নিশ্চিত করার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ করছে।’ 

কান নামে পরিচিত ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশন বলছে, ইসরায়েলের কর্মকর্তারা তথাকথিত হলুদ রেখাকে একটি কৌশলগত এলাকা বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা করছেন। উপত্যকার অর্ধেকের বেশি অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের দখলে। 

এ অবস্থায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেতারা বুলগেরিয়ীয় কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ নিকোলে ম্লাদেনভের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। তিনি সম্ভবত শান্তি পর্ষদের প্রধান হবেন। আশা করা হচ্ছে, ট্রাম্প শিগগিরই টেকনোক্রেটিক কমিটির ১৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করবেন।

ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ গাজা পরিকল্পনার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, ‘এক ব্যবস্থা, একটি আইন ও একটি বৈধ অস্ত্রের নীতি সমুন্নত রেখে’ গাজার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত। চুক্তির মধ্যস্থতাকারী মিসর, তুরস্ক ও কাতার এক যৌথ বিবৃতিতে কমিটি ঘোষণাকে ‘গাজা উপত্যকার স্থিতিশীলতা সুসংহতকরণ ও মানবিক পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ বলে বর্ণনা করেছে। এর নেতৃত্ব দিতে পারেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শা’আত।

এ প্রশাসনিক কমিটি গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির সেবার দায়িত্ব পাবে। এর কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, অর্থায়ন করবে কে–এমন অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি। জাতিসংঘের অনুমান, গাজা পুনর্গঠনে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হবে। এ প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত খুব কম অর্থের প্রতিশ্রুতি মিলেছে।

আলি শা’আত গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সম্প্রচারক বাসমা রেডিওকে বলেন, গাজার প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটি (এনসিএজি) ‘এক স্বদেশ, এক ব্যবস্থা’ কাঠামোর অধীনে পিএর সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে একীভূত হবে। এতে কোনো বিদেশি সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের পরই এর কার্যক্রম শুরু হবে। হামাসের সঙ্গে এর কোনো যোগাযোগ থাকবে না। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের