বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করতে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। দেশটি নির্মাণ শুরু করেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম। নাম ট্রং ডং। পরিকল্পনা অনুযায়ী এর ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার দর্শক। নির্মাণ সম্পন্ন হলে এটি হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম উত্তর কোরিয়ার রুনগ্রাদো। সেখানে বসতে পারে ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শক। ট্রং ডং সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ৫ হাজার আসনে। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দিক থেকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়তে যাচ্ছে ভিয়েতনাম।
স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। লক্ষ্য ২০২৮ সালে উদ্বোধন। ঐ বছরকেই সম্ভাব্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় ধরা হয়েছে। সময়মতো কাজ শেষ হলে ২০২৮ সালেই বিশ্ব দেখবে নতুন এই ক্রীড়া স্থাপনা। ট্রং ডং শুধু একটি ফুটবল স্টেডিয়াম নয়। এটি একটি বহুমাত্রিক অবকাঠামো। এতে থাকবে রিট্র্যাক্টেবল ছাদ। প্রয়োজন অনুযায়ী ছাদ খোলা ও বন্ধ করা যাবে। ফলে আবহাওয়ার বাধা কমবে। সারা বছর আয়োজন সম্ভব হবে। ক্রীড়া ইভেন্ট হবে। কমিউনিটি কার্যক্রম হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। শিল্প ও বিনোদনের বড় মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে এই স্টেডিয়াম।
এই প্রকল্পকে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে ভিয়েতনাম। লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। ফিফা, এএফসি এবং অলিম্পিক কাউন্সিলের মতো সংস্থার কঠোর মানদণ্ড পূরণের লক্ষ্য নিয়েই নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট। উচ্চমানের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা অর্জন। এই স্টেডিয়ামকে আঞ্চলিক মানদণ্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চায় দেশটি।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বড় মাপের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের নতুন কেন্দ্র হতে পারে ভিয়েতনাম। ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। এএফসি টুর্নামেন্ট। বহুজাতিক ক্রীড়া আসর। সবকিছুর জন্য প্রস্তুত রাখা হবে অবকাঠামো। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তিন স্টেডিয়ামের তালিকায় শীর্ষে আছে রুনগ্রাদো। ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩০ হাজার। দ্বিতীয় স্থানে মরক্কোর গ্র্যান্ড স্টেড হাসান। ধারণক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার। এটি ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রতিযোগিতায় রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেডিয়াম। সেখানে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার দর্শক বসতে পারেন।
ট্রং ডং নির্মাণ শেষ হলে এই তালিকার শীর্ষে উঠে আসবে ভিয়েতনাম। সংখ্যার হিসেবে এটি হবে নতুন বিশ্বমানদণ্ড। নির্মাণ ব্যয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রকল্পটির পরিসর ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এটি হবে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো বিনিয়োগ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

