ইরানকে সরাসরি সহায়তা করছে রাশিয়া, দিচ্ছে স্যাটেলাইট ছবি

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি

ইরানকে সরাসরি সহায়তা করছে রাশিয়া, দিচ্ছে স্যাটেলাইট ছবি

আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১৯:৪০, ২৯ মার্চ ২০২৬

Google News
ইরানকে সরাসরি সহায়তা করছে রাশিয়া, দিচ্ছে স্যাটেলাইট ছবি

সৌদি আরবে সুরক্ষিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পেছনে রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল শনিবার কাতারে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।

জেলেনস্কি বলেন, সৌদির মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঠিক আগে রাশিয়া স্যাটেলাইটে সেখানকার ছবি তুলে ইরানের কাছে পাঠায়। এ ব্যাপারে তার কাছে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। 

সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি তার দেশের গোয়েন্দা সংস্থার একটি ব্রিফিংয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছে- গত ২০, ২৩ এবং ২৫ মার্চ সৌদি আরবের ‘প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি’র ছবি তোলে একাধিক রুশ স্যাটেলাইট। প্রথমদিন তারা প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং স্থাপনার অবস্থান নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় দিনে করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্বলতা যাচাই। আর তৃতীয় দিনে হয় হামলার চূড়ান্ত ছক। এর ঠিক একদিন পর, অর্থাৎ ২৬ মার্চ সৌদি আরবে ওই মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। 

পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়। জেলেনস্কি বলেন, ‘অবশ্যই ইরানকে রাশিয়া সাহায্য করছে। যদি জানতে চান কত শতাংশ সাহায্য করছে- আমি বলব ১০০ শতাংশ।’

জেলেনস্কির অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইচ্ছাকৃতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ উসকে দিচ্ছেন। এর পেছনে তিনটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা কাজ করছে। এগুলো হলো-জ্বালানি বাজারের নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া এবং মনোযোগে বিচ্যুতি ঘটানো। 

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা মানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি। আর তেলের দাম বাড়লে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোষাগার সরাসরি লাভবান হয়, যা পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়। খেয়াল করে দেখুন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি ঘাটতি দেখা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে। এভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে পুতিন আরও বেশি অর্থ পাবেন এবং সেই অর্থ দিয়ে অস্ত্র তৈরি করবেন।’ 

জেলেনস্কির মতে, কিয়েভের সবচেয়ে বড় ভয় হলো- ওয়াশিংটনের নজর এবং অস্ত্র সরবরাহের অগ্রাধিকার ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাওয়া। পুতিন চান, বিশ্ববাসী ইউক্রেনকে ভুলে যাক এবং অস্ত্রের কার্গোগুলো কিয়েভের পরিবর্তে তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর দিকে যাত্রা করুক।’

জেলেনস্কির এবারের কাতার ও সৌদি আরব সফরে বড় চমক হলো- একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা সই। এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইউক্রেন এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে পরীক্ষিত ‘অ্যান্টি-ড্রোন টেকনোলজি’ বা বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ করবে।

ইরানে নির্মিত ‘শাহেদ’ ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। একই ড্রোন এখন সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশের মাথা ব্যথার কারণ। জেলেনস্কি বলেন, ‘তারা আমাদের অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। আমরা তাদের কারিগরি সহায়তা দেব, আর বিনিময়ে তারা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।’ এটি মূলত ইরানের ড্রোন প্রযুক্তির বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক জোট তৈরির চেষ্টা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারী দলটি আগে ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা নিয়ে সক্রিয় থাকলেও, এখন মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ব্যস্ত। 

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে মার্কিন দলটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আলোচনায় বসতে পারছে না। ওয়াশিংটনে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ‘ইউক্রেন কখনোই আলোচনার পথে বাধা নই এবং রাশিয়া ও বেলারুশ বাদে যেকোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত’- বল উল্লেখ করেন জেলেনস্কি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইউক্রেন নিয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি কিছুটা সময় থেমে বলেন, ‘আমি আশা করি, তিনি এ বিষয়ে ভাবেন। তবে বাস্তবতা হলো- বর্তমানে তারা নিজের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’

 সূত্র: এনবিসি নিউজ

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের