যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ২৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৪:৩৮, ২৯ মার্চ ২০২৬

Google News
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নের অংশ হিসেবে নতুন ইঞ্জিনের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন-এ পরীক্ষাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি।

রোববার (২৯ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সলিড-ফুয়েল ইঞ্জিনটির গ্রাউন্ড টেস্টে উপস্থিত ছিলেন কিম। কার্বন-ফাইবার উপাদানে তৈরি এই ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ থ্রাস্ট প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোনিউটন, যা এর আগের পরীক্ষার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। কিম এ পরীক্ষাকে দেশের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইঞ্জিনের শক্তি বাড়ানোর এই উদ্যোগ একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতা বাড়াবে।

এই পরীক্ষা এমন সময় হলো, যখন সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে কিম জং উন দেশটিকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও আগ্রাসন”-এর জন্য দায়ী করেন।

প্রতিবেদনে পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময় ও স্থান উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটি দেশটির পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ বলে জানানো হয়েছে, যার লক্ষ্য কৌশলগত আঘাত হানার সক্ষমতা—বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)—উন্নত করা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া একাধিক আইসিবিএমের পরীক্ষা চালিয়েছে, যেগুলোর পাল্লা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য হওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন।

তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, কার্যকর আইসিবিএম সক্ষমতা অর্জনে এখনও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় ওয়ারহেড সুরক্ষিত রাখা। যদিও অন্যরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও উন্নয়নের কারণে এ সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে পিয়ংইয়ং।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে জোর দেয় উত্তর কোরিয়া। সাম্প্রতিক দলীয় কংগ্রেসে কিম সংলাপের সম্ভাবনা খোলা রাখলেও নিরস্ত্রীকরণকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের