যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে প্রথম এলপিজি ট্যাংকার বাংলাদেশে

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬,

১৫ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে প্রথম এলপিজি ট্যাংকার বাংলাদেশে

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ২৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৪:৪৩, ২৯ মার্চ ২০২৬

Google News
যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে প্রথম এলপিজি ট্যাংকার বাংলাদেশে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধকবলিত এলাকা থেকে এলপিজি নিয়ে একটি ট্যাংকার বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ওমান উপসাগর থেকে আসা ‘এমটি বিডব্লিউইকে বোর্নহোম’ নামের এই জাহাজটি গত শুক্রবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পণ্য খালাস সম্পন্ন করেছে।

শিপিং এজেন্টদের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা এটিই প্রথম এলপিজি পরিবাহী জাহাজ। স্মার্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড এই এলপিজি আমদানি করেছে। ৩ হাজার ৮০০ টন এলপিজি নিয়ে জাহাজটি ওমানের দুকম বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। পথিমধ্যে শ্রীলঙ্কায় আংশিক পণ্য খালাস করে সীতাকুণ্ডে এসে বাকি অংশ নামিয়ে দিয়ে যায়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলেও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফলে এই চালানটি আনা সম্ভব হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে তেহরানের পাল্টা জবাবের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইন্টারন্যাশনাল বার্গেনিং ফোরাম (আইবিএফ) এই পুরো এলাকাকে ‘যুদ্ধাঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ঝুঁকির কারণে বিমা কোম্পানিগুলো যুদ্ধ প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেওয়ায় এখন এই পথে পণ্য পরিবহনের খরচও আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বড় জ্বালানি ট্যাংকার এখনো পারস্য উপসাগরে আটকে আছে। এর মধ্যে ‘এমটি লিব্রেথা’ ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে কাতারের উপকূলে এবং ‘এমটি নরডিক পলুকস’ ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি না মেলায় জাহাজ দুটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না।

এদিকে আটকে থাকা এই জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ। গত ২৫ মার্চ ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ইরান ইতিবাচক সাড়া দিলেও কারিগরি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় জাহাজ দুটি এখনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেনি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশ এবং এলএনজির ৬৫ শতাংশই এসেছে এই অঞ্চল থেকে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ দ্রুত সুগম না হলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের