ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নেপাল ও তিব্বতে ১৬২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও, স্থানীয়সহ নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০ জনে। এদের মধ্যে ১৩৩ ভারতীয়, ৫৪ জন মার্কিন ও ৩৩ ব্রিটিশ নাগরিক আছেন। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে ভারত ও চীন।
পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলার ভাটির দিকের বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং ২৬ জনের মরদেহ নাওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
জঙ্গল সাফারির জন্য পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র চিতওয়ান বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকা এলাকাগুলোর একটি। বুধবার তিব্বত সীমান্তের কাছে নেপালের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংসদে বক্তব্য দেয়ার সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরবর্তী সময়ে ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট হিমবাহ ধস থেকেই এই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এই ঘটনায় নেপালের পাশাপাশি সংলগ্ন চীন অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উভয় দেশ যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
কয়েকটি সূত্র বলছে, এই পর্যটকদের অনেকেই তিব্বতের কৈলাস ও মানস সরোবরের উদ্দেশে তীর্থযাত্রার জন্য যাচ্ছিলেন। এদের মধ্যে ভারতীয়'র সংখ্যা শতাধিক, এরপরেই আছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডের নাগরিক।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

