চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় ভারতের নতুন উদ্যোগ

শুক্রবার,

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২০ ভাদ্র ১৪৩৩

শুক্রবার,

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২০ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় ভারতের নতুন উদ্যোগ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১৫, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৪:২৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় ভারতের নতুন উদ্যোগ

ভারত সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সুদৃঢ় করার পাশাপাশি কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদারে ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা তথাকথিত 'চিকেন্স নেক' অঞ্চলে একটি নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণে ২,০০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ অনুমোদন করেছে।

কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন্স নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর বাংলাদেশ সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়। এছাড়া ভারতের সরু এ করিডরটির সঙ্গে নেপালের সীমান্তও আছে। এটি ভুটান ও চীন থেকেও খুব কাছে।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ২,০৭৭.১৮ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের রূপরেখা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব: প্রস্তাবিত নতুন মহাসড়কটি জাতীয় মহাসড়ক ৩২৭ (এনএইচ ৩২৭) নামে পরিচিত হবে। এটি শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা থেকে শুরু হয়ে প্যানিট্যাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার গলগলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩১.০২ কিলোমিটার বিস্তৃত হবে।

সড়কটি এই অঞ্চলের প্রধান ধমনী বলে পরিচিত ২৭ নম্বর জাতীয় মহাসড়কের (এনএইচ ২৭) সমান্তরালে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে নির্মিত হবে।

নেপাল, বাংলাদেশ, চীন ও ভুটান সীমান্তের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শিলিগুড়ি করিডোরটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। সংকীর্ণতম স্থানে এই করিডোরটি মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত। ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতে যাতায়াতের জন্য এটি একমাত্র স্থলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যোগাযোগ, অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত সুবিধা: নতুন এই চার লেনের মহাসড়কটি নির্মিত হলে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও প্যানিট্যাঙ্কি এলাকার তীব্র যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। একই সাথে বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং নেপাল সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটগুলোর সাথে ট্রাফিক সংযোগ আরও সুগম হবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের কৃষি, উদ্যানপালন ও চা শিল্পের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত দেশের বড় বাজারগুলোতে পৌঁছানো সহজ হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ, রাস্তার দুই পাশে সার্ভিস রোড এবং পাঁচটি হস্তী পারাপার পথ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কার্সিয়াং বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় বুনো হাতির অবাধ যাতায়াত এবং ধান কাটার মৌসুমে তাদের চলাচলের ঝুঁকি এড়াতে বন বিভাগের দাবির ভিত্তিতেই এই বিশেষ আন্ডারপাসগুলো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণী হতাহতের ঝুঁকি কমাবে।

কৌশলগত প্রেক্ষাপট ও অতিরিক্ত পদক্ষেপ: সাম্প্রতিক সময়ে এই শিলিগুড়ি করিডোরকে সুরক্ষার চাদরে মুড়ে ফেলতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ কিছু বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত উচ্চগতির ট্রেন করিডোর, শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং মালদা থেকে এনজিপি পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বাগডোগরা বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ এবং আলিপুরদুয়ারের হাসিমারায় অবস্থিত রাফায়েল যুদ্ধবিমান ঘাঁটি সংলগ্ন বিমানঘাঁটি থেকে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক জনপ্রতিনিধিদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পটির গুরুত্ব কেবল আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি পুরো দেশের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দিক উন্মোচন করবে। তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের