‘অনৈতিক সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যা: পুলিশ

বৃহস্পতিবার,

০৮ জানুয়ারি ২০২৬,

২৪ পৌষ ১৪৩২

বৃহস্পতিবার,

০৮ জানুয়ারি ২০২৬,

২৪ পৌষ ১৪৩২

Radio Today News

‘অনৈতিক সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যা: পুলিশ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:১৯, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
‘অনৈতিক সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যা: পুলিশ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় রান্নাঘর থেকে ১১ বছরের শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাচা ও বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে চাচার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, ‘বাবার অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায়’ মেয়েটিকে ‘হত্যার পরিকল্পনা’ করেন তার বাবা। পরে চাচাতো ভাইকে দিয়ে নিজ সন্তানকে ‘হত্যা এবং লাশ গুম করার চেষ্টা’ করেন।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শিশুটির চাচাকে সোমবার গ্রেপ্তারের পর তিনি পটুয়াখালী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আর শিশুটির বাবাকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

আজ দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই  মো. সোহান আহমেদ আসামি বাবুল প্যাদাকে রাঙ্গাবালী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এসময় আসামি পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম (রুবেল হাওলাদার) বাবুল প্যাদাকে নির্দোষ দাবি করে জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন জামিন নামঞ্জুরের আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বাবুল প্যাদার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক মো. দোলন হাসান। 

এর আগে সোমবার মামলার আরেক আসামি রুবেল প্যাদা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন। এই জবানবন্দির ভিত্তিতেই সোমবার বিকেলে বাবুল প্যাদাকে খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামি রুবেল প্যাদার বক্তব্য রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনা দেন।

এদিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা সেঁজুতি সরকার জানান, সোমবার শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শিশুটির মরদেহের কিছু অংশ গলে যাওয়ায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে, ডিএনএ টেস্টে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার এসআই মো. সোহান আহমেদ জানান, সোমবার আসামি রুবেল প্যাদাকে আদালতে তোলা হলে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মেয়েটির বাবা বাবুল প্যাদার নির্দেশে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতকে নিশ্চিত করেন। তবে আসামি রুবেল প্যাদার এই বক্তব্যে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাই ঘটনাটির অধিকতর তদন্ত হওয়া দরকার। 

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, নিহত মেয়েটির মা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে। মায়ের অবর্তমানে বাবা নিহত শিশু কন্যার সমবয়সী এক মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বাবার এসব ঘটনা মেয়ে দেখে ফেলে এবং তার বড় বোনকে জানায়। এ নিয়ে ওই পরিবারের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য মেয়েটির বাবা রুবেল প্যাদার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মেয়েকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। হত্যার আগে রুবেল প্যাদা ও বাবুল প্যাদার মধ্যে আর্থিক লেনদেনও হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আসামি রুবেল প্যাদা ঘরে ঢুকে মেয়েটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে একটি বস্তায় ভরে রান্নাঘরের পাশে রেখে দেন। মেয়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে থানায় জিডি করেন বাবা বাবুল প্যাদা। এসব কথা আদালত ও পুলিশের কাছে আসামি রুবেল প্যাদা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় ওই মেয়েটির বড় বোন বাদী হয়ে বাবা বাবুল প্যাদা ও রুবেলকে প্যাদাকে আসামি করে মামলা করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের