সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নাগরিকের অতিসংবেদনশীল জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য বিক্রি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও এবং মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাত্র এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য বিক্রি করেছেন তারা। প্রতিটি তথ্যের জন্য ৩০০ টাকা হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এ টাকা দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। ডিআইজি আবুল বাশার আরও বলেন, গ্রেপ্তার আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারা দেশের নাগরিকের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন মো. আলামিন। অন্যদিকে হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের এনআইডির তথ্য বিক্রি করতেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে সমাজমাধ্যমকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে তথ্য বিক্রি করতেন। এনআইডির তথ্য বিক্রির ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

