মঙ্গলবার,

১৮ মে ২০২১

আত্মহত্যার পরিণতি এত ভয়ঙ্কর!

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৮, ১৫ নভেম্বর ২০২০

আপডেট: ১১:৩০, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আত্মহত্যার পরিণতি এত ভয়ঙ্কর!

ইসলামে আত্মহত্যাকে মহাপাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এরপরও এমন অনেকই আছে, যারা জীবনযাপনের কঠিন দুঃখ-দুর্দশা ও ব্যর্থতার গ্লানি থেকে রক্ষা পেতে অথবা জেদের বশবর্তী হয়ে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। অথচ ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা ও আস্থা থাকলে কারও আত্মহত্যার মতো পথে চলতে হয় না।

আত্মহত্যা থেকে দূরে থাকতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর কঠোর শাস্তির বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)

বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আজকাল আত্মহত্যার ঘটনা প্রায়ই চোখে পড়ে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি। বখাটেদের উৎপাৎ, মা-বাবার সামান্য বকা, পারিবারে অশান্তি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি বিষয়ের সঙ্গেও জড়িত আছে আত্মহত্যার মতো ঘটনা। এসব আত্মহত্যার পেছনে কাজ করে প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপ। ফলে ভারসাম্য হারিয়ে তা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের মধ্য দিয়ে দুর্বল চিত্তের ব্যক্তিরা মুক্তি খোঁজে। 

আত্মহত্যার ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

ইসলামি বিধানে আত্মহত্যা নাজায়েজ; এর প্রতিফল চিরস্থায়ী জাহান্নাম। যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, সে শুধু তার নিজের ওপরই অত্যাচার করে না বরং তার পরিবার-পরিজন সবাই খুব কষ্ট পায়। যে পরিস্থিতিতেই হোক না কেন আত্মহত্যা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অপরাধ। কেননা, এর দ্বারা আল্লাহর বেঁধে দেওয়া নিয়মের বরখেলাপ হয়ে যায়।

আত্মহত্যা একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। যখন নিজেকে অসহায় ও আশাহত মনে হয় এবং আত্মহত্যার কুচিন্তা মনে আসে, তখন মনে করতে হবে এখন কুমন্ত্রণাদাতা শয়তানের দুরভিসন্ধি এসেছে। তাই এসব মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে অবশ্যই দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। বিপদে ধৈর্য ধারণে অবিচল থেকে আল্লাহর ওপর নির্ভর করার প্রেরণা তিনিই মানুষকে দান করেছেন।