মাথাব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা, তবে প্রতিদিন মাথাব্যথা হলে তা বিপদজনক । ঘন ঘন মাথাব্যথা গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। ভারতীয় নিউরো বিশেষজ্ঞ ডা. নীতিন কে. শেঠির মতে, যদি মাথাব্যথা ঘন ঘন হয়, তীব্র হয় এবং এর পাশাপাশি কিছু লক্ষণ থাকে তাহলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমন হলে মাথাব্যথার কারণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব কারণে মাথাব্যথা হতে পারে-
মাইগ্রেন: মাথাব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল মাইগ্রেন। মাইগ্রেনের ফলে মাথার এক অংশে তীব্র ব্যথা হয়। এর সাথে বমি, বমি বমি ভাব এবং আলো বা জোরে শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতার মতো লক্ষণও থাকতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব বা নির্দিষ্ট কিছু খাবারের কারণে মাইগ্রেন হতে পারে।
অতিরিক্ত চাপ: টেনশন বা দুশ্চিন্তার কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। এমন হলে মাথার উভয় পাশে ভারী বা চাপ অনুভূত হয়। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখা, উদ্বেগ, মানসিক চাপের কারণে মাথাব্যথা হয়। ব্যথা হালকা থেকে মাঝারি হতে পারে, তবে এটি স্থায়ীও হতে পারে।
সাইনাস সংক্রমণ: সাইনাস সংক্রমণের ফলেও মাথাব্যথা হতে পারে। যখন সাইনাস ফুলে যায় বা সংক্রামিত হয়, তখন কপাল, চোখ এবং গালের চারপাশে ব্যথা অনুভূত হয়। এর সাথে নাক বন্ধ হওয়া, জ্বর বা মুখেও জড়তা থাকতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে, বিশেষ করে যখন রক্তচাপ খুব বেশি বেড়ে যায়। মাথার পিছনে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এর সাথে মাথা ঘোরা বা ঝাপসা দৃষ্টির মতো লক্ষণও থাকতে পারে। তাই, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রেন টিউমার, মেনিনজাইটিস, বা ব্রেন হেমোরেজ: কখনও কখনও মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমার, মেনিনজাইটিস, বা ব্রেন হেমোরেজ এর মতো গুরুতর অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। যদি মাথাব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে, আপনার আগে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে তার থেকে আলাদা হয়, সাথে দুর্বলতা, কথা বলতে অসুবিধা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনির মতো লক্ষণগুলি থাকে তাহলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যদি সপ্তাহে বেশ কয়েকবার মাথাব্যথা হয়, ওষুধ খেলেও না কমে অথবা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে বেশিরভাগ মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

