খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাস

মঙ্গলবার,

২০ জানুয়ারি ২০২৬,

৭ মাঘ ১৪৩২

মঙ্গলবার,

২০ জানুয়ারি ২০২৬,

৭ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

লক্ষণ ও সতর্কতা

খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাস

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাস

শীতের ভোরে কুয়াশার চাদর ভেদ করে গাছ থেকে নামানো টাটকা খেজুরের রস পানের ঐতিহ্য বহু বছরের। এই রসের তৃপ্তির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে এক ভয়ংকর মরণব্যাধি, যার নাম নিপাহ ভাইরাস। নিপাহ ভাইরাস একটি ভাইরাসজনিত ভয়ংকর রোগ, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ পশু থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। বাংলাদেশে এর প্রধান উৎস হলো খেজুরের রস খাওয়া বাদুড়। খেজুরের রস খাওয়ার সময় বাদুড়ের মুখ থেকে নিঃসৃত লালা রসের সঙ্গে মিশে দূষণ সৃষ্টি করে। ফলে ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

আক্রান্ত হলে কী হয় 
নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো হলেও পরে তা গুরুতর রূপ নিতে পারে:

  • হঠাৎ তীব্র জ্বর আসা এবং প্রচণ্ড মাথাব্যথা হওয়া।
  • মাংসপেশিতে অসহ্য ব্যথা এবং শরীরের চরম অবসাদগ্রস্ততা।
  • কাশির সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের জটিলতা দেখা দেওয়া।
  • মানসিক বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন আচরণ করা এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব।
  • রোগের মাত্রা বাড়লে মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে, যা রোগীকে দ্রুত কোমায় নিয়ে যায় বা মৃত্যুর কারণ হয়।

নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসা কী?
নিপাহ ভাইরাস একটি অত্যন্ত জটিল রোগ। কারণ, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ বা কার্যকর টিকা আবিষ্কৃত হয়নি।

সাপোর্টিভ কেয়ার: যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তাই চিকিৎসকরা মূলত রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য ‘সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট’ প্রদান করেন।

হাসপাতালে ভর্তি: লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা বিশেষায়িত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।

সতর্কতা: আক্রান্ত রোগীর সেবা করার সময় সেবাদানকারীদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়; যাতে লালা বা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাসটি অন্যের শরীরে না ছড়ায়।

সচেতন থাকতে যা করবেন
নিপাহ রোগ থেকে রক্ষা পেতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমত, খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া উচিত নয়, হিমায়িত খেজুরের রসও এড়িয়ে চলা ভালো। এছাড়া কোনো ধরনের আংশিক খাওয়া ফলও নিরাপদ নয়; ফলমূল সবসময় পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত।

যদি কোনো ব্যক্তিতে নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তাঁকে অতিদ্রুত কাছাকাছি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর অবশ্যই সাবান ও পানি দিয়ে দুই হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত।

এক মুহূর্তের তৃপ্তির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই কাঁচা খেজুর রস পানে সচেতন হোন এবং নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে মুক্ত রাখুন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের