আগামী সাত দিনের মধ্যে দেশের সকল নির্বাচনি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেসব এলাকায় বিকল্প উপায়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
বুধবার আসন্ন পবিত্র রমজান মাস, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, যেসব এলাকায় লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী মোবাইল ভ্যান, জেনারেটর ও প্রয়োজনীয় ডিজেল মজুত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই সেখানে দ্রুত সংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে জেনারেটর অথবা সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এজন্য সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম, স্থানীয় মনিটরিং টিম এবং নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম সভায় বলেন, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে জেলা প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন টিম ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে নিয়মিত তদারকি করবে।
সভায় জানানো হয়, আসন্ন রমজান মাস, গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এ প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সভায় অতিরিক্ত চাহিদার সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়া পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) ব্যবহারে সংযমী হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
রমযানে রোজাদারদের যেন কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

