ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে (13th National Parliamentary Election) কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন এবং এর আগে-পরে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচলের (Vehicle Movement Restriction) ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ইসি জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি ক্যাবসহ মোট চার ধরনের ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেল চলাচলের (Motorcycle Ban) ওপর দেওয়া হয়েছে টানা তিন দিনের নিষেধাজ্ঞা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক পত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে এই নির্দেশনা (EC Guidelines) বাস্তবায়নের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইসির নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ মোট ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সিক্যাব (Taxi Cab), পিকআপ (Pickup), মাইক্রোবাস (Microbus) এবং ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও দীর্ঘ করা হয়েছে; ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
জনসাধারণের সুবিধার্থে জরুরি সেবা (Emergency Services) এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল (Exemption) রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (Law Enforcement Agencies), সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক (Election Observers) ও সংবাদপত্রের (Press/Media) গাড়ি এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া জরুরি সেবায় নিয়োজিত ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং বিমানবন্দরে যাওয়া-আসা করা যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনের গাড়ি টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন (Long-distance Buses) এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদিত একটি গাড়ি চলাচলের অনুমতি পাবে। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ সেবায় নিয়োজিত বিটিআরসি (BTRC) ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন চলাচলেও কোনো বাধা থাকবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে যে, জাতীয় মহাসড়ক (National Highways), বন্দর এবং আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। এছাড়া স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা (Local Necessity) বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (District Magistrate) বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা চাইলে নির্দিষ্ট কোনো যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন অথবা বিদ্যমান নিয়ম শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন (Fair Election) নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন যাতায়াত ব্যবস্থায় এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

