ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারের সময় শেষ হয়েছে; নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো দেশ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভোটের প্রচারের সুযোগ ছিল। এরপর কেউ কোনোভাবে প্রচার করলে তা হবে আচরণবিধির লঙ্ঘন।
আইন শৃঙ্খলাবাহিনীসহ ভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই এখন নির্বাচনের মাঠে। নির্বাচনী সরঞ্জামও কেন্দ্রে পৌঁছানোর অপেক্ষায়।
নির্বাচন পরিচালনা ও আইন শৃঙ্খলা খাত মিলিয়ে এবার ৩ হাজার কোটি টাকার ভোট হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা পুরো প্রস্তুত। আমাদের খুব ভালো প্রস্তুতি। এখন আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মাঠে…।”
সেনাবাহিনী এতদিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি রুটিন দায়িত্ব পালন করে আসছিল। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা নির্বাচনকালীন দায়িত্বে। এক সপ্তাহ ধরে ভোটের কাজে মোতায়েন থাকছেন কয়েক লাখ সদস্য।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “সবাই সম্পূর্ণ মাঠে নেমে গেছে। কাজেই আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে এবং নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, কোনো রকম অন্যায় হওয়ার সুযোগ এখানে নেই।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের ‘শঙ্কারও কোনো কারণ নেই’ বলে আব্দুর রহমানেল মাছউদের প্রত্যাশা।
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “নির্বিঘ্নে ভোটের পরিবেশ থাকবে। কোনো ধরনের কোনো শঙ্কা বা চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়া, সহিংসতা ছাড়াই প্রচার শেষ হল। বার্তা দিতে পারেন- সম্পূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা এবং সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
“আমরা বলেছি হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ–যারাই থাকুক এবং নারীদের জন্য ‘ভয়হীন, শঙ্কাহীন’ পরিবেশ বিরাজ করছে।
নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রচার এবার পরিচ্ছন্নভাবে হয়েছে। এটা আপনারা স্বীকার করবেন এবং এই কালচার আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। আমরা মনে করি যে সম্পূর্ণ আমাদের পরিস্থিতি সুস্থ এবং সৌহারদ্যপূর্ণ রয়েছে।
“বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যুদ্ধ, ভাইয়ে ভাইয়ে হলেও কিছু কথা কেউ কেউ কারো বিরুদ্ধে বলত। সেটা যার যার পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজি থেকে হয়েছে। বড় ধরনের কোনো সংঘাত এবার হয়নি।”
সব আসনের ভোটের ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছনে এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করছি যে, ১৩ তারিখ সকালের মধ্যেই সব ফল আমরা প্রকাশ করতে পারব।”
- ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে।
- সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।
-একজন ভোটার দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন। সংসদের ভোটের ব্যালট হবে সাদাকালো; গণভোটেরটি গোলাপী।
- ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পান প্রতিদ্বন্দ্বি প্রাার্থীরা। ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচার শুরু হয়ে শেষ হয় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়।
-নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
এবার সারাদেশে মোট ভোটার রয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২২০ জন।
এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি।
সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে—২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার আছেন গাজীপুর-২ আসনে।
ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী। আর পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম—মাত্র ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন।
সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি কক্ষে।
নির্বাচনি দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের বেশি সদস্য।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

