৫ আগস্টের পরের মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মঙ্গলবার,

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

১১ ফাল্গুন ১৪৩২

মঙ্গলবার,

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

১১ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

৫ আগস্টের পরের মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:১৩, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২৩:৩৪, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
৫ আগস্টের পরের মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরীহ মানুষ যাতে ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে যাতে কেউ মামলাবাজির শিকার হয়ে ভোগান্তিতে না পড়েন সেটি নিশ্চিত করা হবে। 

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সোমবার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপি এই বৈঠক চলে।
 
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক হোক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। পুলিশের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করলে সঙ্গে সঙ্গে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি বলেন, পুলিশের কাজে অনেক সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হয়। সেটি বন্ধ করতে হবে।
  
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলা হয়েছে, কিছু সুবিধাবাদী মানুষ মামলা করেছে। কিছুক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সমাজের বিশিষ্টজন ও সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষদের নামে মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকারকে প্রতিবেদন দেবে পুলিশ।  

লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি পদায়ন বন্ধ করা হবে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের চেইন অব কমান্ড থাকতে হবে। এখন থেকে পুলিশের ওসি ও এসপি পদায়নে লটারি পদ্ধতি থাকবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, লটারির মাধ্যমে নিয়োগের কারণে যাকে যেখানে দেওয়া দরকার, তাঁকে সেখানে দেওয়া যায় না। তাছাড়া লটারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। বিগত সময় লটারিতে পদায়ন স্বচ্ছ ছিল না। যিনি যেখানে যোগ্য, তাঁকে সেখানে পদায়ন করা হবে। এসব পদায়ন সার্ভিস রেকর্ড দেখে করা উচিত ছিল। দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনায় নিয়ে এগুলো নিয়ে কাজ করবো। 
 
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপাররা (এসপি) অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে প্রটোকল দিয়ে থাকেন। এখন থেকে বিধির বাইরে গিয়ে এসপিরা কাউকে প্রটোকল দেবেন না।
 
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশের কাজেও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। মানুষের হয়রানি হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না। পুলিশ এমন কোনো কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা আবার তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরেকটা বোধ হয় তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বলেছি, আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে, আমাদের ইশতেহারের মধ্যেও আছে যে, আমরা বিডিআরের ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনঃতদন্ত অথবা একটা কমিশন গঠন করে কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী কাজ করব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে (২০০৯ থেকে ২৪ সাল) দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। বিগত সময়ে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না, কাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তাঁরা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য ছিল কি না, তা দেখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময়ে যাঁরা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তাঁদের অস্ত্রের লাইসেন্স বহাল থাকবে আর যাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং অপরাধের উদ্দেশ্যে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেসব লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বৈধ অস্ত্রধারীদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু এখনো প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র জমা পড়েনি। সেগুলোও চিহ্নিত করে উদ্ধার করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতি করে পুলিশের কনস্টেবল পদে যাঁরা চাকরি নিয়েছেন, সেসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি বলেন, নাম-ঠিকানা জালিয়াতি করে পুলিশে অনেকে চাকরি নিয়েছেন বলে শোনা যায়। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা দেখতে পুলিশকে বলা হয়েছে। তবে অহেতুক পুলিশের সবাই যেন ঘাবড়ে না যান সে বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে এই কাজ না করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশের সব পর্যায়ে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবলের পদ খালি রয়েছে। দ্রুত এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ২০০৬ সালে চাকরি হারানো সাড়ে ৬৩০ পুলিশ সদস্য চাকরি ফিরে পাবেন বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে অভিযোগ অনেক দিনের। দেশের অধিকাংশ মানুষ জানেন না, কীভাবে পাসপোর্ট করতে হয়। সে জন্য পাসপোর্ট অফিসের কিছু লোকজনের কারণে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পাসপোর্ট অফিসের এই ভোগান্তি নিরসনের জন্য সরকার একটা পন্থা বের করেছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে এটা চালু করা হবে। সেটি হলো দলিল লেখকদের মতো পাসপোর্টেও কিছু লোকজন থাকবে নিবন্ধিত, যাঁরা পাসপোর্টের কাজটি করে দেবেন। এ জন্য তাঁরা সার্ভিস চার্জ নিতে পারবেন। এতে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান হবে, আবার ভোগান্তি কমে আসবে। 

মব ভায়োলেন্সের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি কোথাও ‘মব ভায়োলেন্স’ হয়ে থাকে, তাহলে সরকার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, মহাসড়ক বন্ধ করে দাবি আদায় করা যাবে না। কারও কোনো বৈধ দাবি থাকলে বৈধ পথে আসতে হবে।

একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাক্ষাৎকারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকের কথা বলার অধিকার রয়েছে। যে যার মতো করে কথা বলবেন। প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’

২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৭৫০ জন এসআই ও সার্জেন্টের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁদের চাকরি পুনর্বহালের কথা থাকলেও ফাইল আটকে ছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সারসংক্ষেপ আদালতে পাঠানো হবে এবং তাঁরা চাকরি ফিরে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে শুধু পুলিশ নয়, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে। সেই মোটিভেশনাল ওয়ার্কটা আমরা করছি।’ 
তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো, তাদের সাহস জোগাবো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা দেবো। পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।’

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. গোলাম রসুল, র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব দেলোয়ার হোসেন, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ছিবগাত উল্লাহ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার, এনটিএমসির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান সরোয়ার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান উপস্থিত ছিলেন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের