ঢাকায় আনার পথে নারীর মৃত্যু, ৮ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক

মঙ্গলবার,

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

১১ ফাল্গুন ১৪৩২

মঙ্গলবার,

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

১১ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ

ঢাকায় আনার পথে নারীর মৃত্যু, ৮ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৪৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
ঢাকায় আনার পথে নারীর মৃত্যু, ৮ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক

চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) নামে এক নারী মারা গেছেন। তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দগ্ধ ৯ জনকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। সেখানে রানীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ওই নারীর স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের আরও আটজন বর্তমানে জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন—নুরজাহান আক্তার রানীর স্বামী সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), তাদের বড় ছেলে শাওন (১৭), ছোট মেয়ে আইমান (৯), সাখাওয়াতের দুই ভাই শিপন (৩০) ও সামির হোসেন সুমন (৪০), সামিরের বড় ছেলে আনাস (৭), ছোট মেয়ে আয়েশা আক্তার (৪) ও তার স্ত্রী পাখি আক্তার (৩৫)।

জাতীয় বার্নের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধ সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। অন্যদেরও নেওয়া হতে পারে।

সোমবার ভোর ৫টার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই আগুন ধরে যায়। প্রতিবেশীরা জানান, শরীরে আগুন নিয়ে ওই পরিবারের সদস্যরা একে একে সবাই ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। বিস্ফোরণের সময় তারা সেহরি করছিলেন।

পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য আনা হয় ঢাকার জাতীয় অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। তারা সবাই জরুরি বিভাগে ভর্তি আছেন।

রাতে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে দগ্ধ অবস্থায় ৯ জনকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে নুরজাহান আক্তার রানী নামের এক নারী মারা গেছেন। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

তিনি জানান, অন্যদের মধ্যে সাখাওয়াতের শরীরে ১০০ শতাংশ, শাওনের ৫০ শতাংশ, আইমানের ৩৮ শতাংশ, শিপনের ৮০ শতাংশ, সামিরের ৪৫ শতাংশ, আনাসের ৩০ শতাংশ, আয়েশার ৪৫ শতাংশ ও পাখি আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ হয়েছে।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল দগ্ধদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হতে পারে। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম, যেন তাদের আনার পর দ্রুত চিকিৎসা দিতে পারি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি বলেন, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। অবজারভেশন শেষে অন্যদেরও আইসিইউতে পাঠানো হবে।

বিস্ফোরণের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনার পর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ওই বাসায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার নয়, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লাইনের গ্যাস ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে ঘরে জমে ছিল। জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের