টানা দ্বিতীয় বছরও বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর ঢাকা

মঙ্গলবার,

০৭ জুলাই ২০২৬,

২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

০৭ জুলাই ২০২৬,

২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

টানা দ্বিতীয় বছরও বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর ঢাকা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:০০, ৭ জুলাই ২০২৬

Google News
টানা দ্বিতীয় বছরও বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর ঢাকা

প্রতি বছরের মতো এবারও বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচক প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঢাকা। তালিকায় ঢাকার নিচে রয়েছে শুধু লিবিয়ার ত্রিপোলি (১৭২তম) এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক (১৭৩তম)।

ইআইইউর তথ্যমতে, ঢাকার মোট স্কোর ৪১ দশমিক ৭। সংস্থাটি পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে। এগুলো হলো—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। মূলত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ এবং প্রবাসী কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে এই সূচক ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরেই বাসযোগ্যতার সূচকে ধারাবাহিকভাবে তলানির দিকে রয়েছে ঢাকা। অপরদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রাখা শহরটির স্কোর ৯৮। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। শীর্ষ পাঁচে আরও রয়েছে সিডনি ও জুরিখ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যানজট, অতিরিক্ত জনঘনত্ব এবং অপরাধপ্রবণতার কারণে বড় মহানগরগুলোর বাসযোগ্যতার স্কোর তুলনামূলক কম থাকে। বিশ্বের বৃহৎ মহানগরগুলোর মধ্যে জাপানের টোকিওই একমাত্র শহর, যা এবার শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে। উত্তর আমেরিকার একমাত্র শহর হিসেবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার রয়েছে নবম অবস্থানে।

২০১৩ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের অবস্থান ধরে রেখেছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। তালিকার নিচের দিকের শহরগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ত্রিপোলি, করাচি, আলজিয়ার্স, লাগোস, পোর্ট মোর্সবি, কিয়েভ, হারারে ও তেহরান।

সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শহরের অবস্থানে। ইরানি ড্রোন হামলার পর ওমানের রাজধানী মাস্কাট ১৪ ধাপ পিছিয়ে ১২৩তম স্থানে নেমে গেছে। একইভাবে কাতারের দোহা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবির অবস্থানও কয়েক ধাপ অবনমন হয়েছে।

অন্যদিকে, এ বছর এশিয়ার শহরগুলোর সামগ্রিক বাসযোগ্যতা কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের বিভিন্ন শহরের উন্নতির ফলে অঞ্চলের গড় স্কোর ০.৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩.৯-এ পৌঁছেছে, যা পূর্ব ইউরোপের গড় স্কোরের চেয়েও বেশি। তবে ঢাকার মতো নিম্ন স্কোরধারী শহরগুলো এশিয়ার সামগ্রিক গড়কে নিচের দিকে টেনে ধরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি বিনিয়োগের ফলে চীনের শহরগুলো স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। দেশটি এমন একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক ১৫ মিনিট হাঁটার দূরত্বের মধ্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা, পরিবেশগত সমস্যা এবং গণতান্ত্রিক ঘাটতির কারণে দেশটির শহরগুলোর সামগ্রিক বাসযোগ্যতার উন্নতি প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি।

প্রতিবেদনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের