গুরুত্বপূর্ণ ৬টি বিল পাসে প্রাণবন্ত ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

শুক্রবার,

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

শুক্রবার,

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

গুরুত্বপূর্ণ ৬টি বিল পাসে প্রাণবন্ত ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:১৩, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
গুরুত্বপূর্ণ ৬টি বিল পাসে প্রাণবন্ত ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের নয়টি বৈঠক প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ‘নিবর্তনমূলক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ রয়েছে। এসব আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথ সুগম হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ শুরু হয়। এ অধিবেশনে মোট নয়টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে ছয়টি বিল উত্থাপন এবং ছয়টি বিল পাস করা হয়।

তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া ছয়টি বিল হলো: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬; সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬; ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬;‘ স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬।

এ ছাড়া অধিবেশন চলাকালে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়। একটি বিশেষ কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়।

কার্যপ্রণালি বিধির বিভিন্ন বিধানের আওতায় সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ দেন এবং বিধি অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।

স্পিকার জানান, অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

২৭ আগস্ট শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বৃহস্পতিবার নয়টি বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধির বিভিন্ন বিধানের আওতায় সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দেন এবং বিধি অনুযায়ী এসব নোটিশ নিষ্পত্তি করা হয়।

বিধি ৬৮-এর আওতায় মোট সাতটি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি গ্রহণ করে আলোচনা হয়। বিধি ৭১-এর আওতায় ১৫টি নোটিশ গ্রহণ করা হয় এবং ১৪টি নিয়ে আলোচনা হয়।

দুই মিনিটের বক্তব্যের জন্য বিধি ৭১(ক)-এর আওতায় মোট ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিধি ১৪৭-এর আওতায় দুটি এবং বিধি ৩০২-এর আওতায় একটি নোটিশ উত্থাপিত হয়।

গতকাল অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানও বক্তব্য দেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শিগগিরই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। সরকার এ সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘এতদিন আমরা আমদানিনির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ভোক্তা ছিলাম। সরকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে আমরা আর আমদানিকৃত জ্বালানির ভোক্তা থাকব না, আমরা সৌরবিদ্যুতের উৎপাদক হব।’

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে অশালীন ভাষা ব্যবহারের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বাকস্বাধীনতা অবাধ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, বাকস্বাধীনতা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে।’

রাষ্ট্রপতির অধিবেশন সমাপ্তির আদেশ পাঠের আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এবং সংসদীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থায় মতপার্থক্য স্বাভাবিক বিষয়। ভিন্নমত প্রকাশের সময় সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ধরনের চর্চা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে বলেও উল্লেখ করেন।

অশালীন ভাষা ব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বিরত থাকতে সংসদ নেতার আহ্বানের কথা উল্লেখ করে স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অধিবেশনগুলোতেও সব সদস্য সংসদীয় বিধি, রীতি ও প্রথা মেনে চলবেন।

তিনি বলেন, সব সদস্যকে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ সময় সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, চিফ হুইপ, বিরোধীদলের চিফ হুইপ এবং সংসদ সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানান।

এ ছাড়াও তিনি তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আদেশ পাঠ করেন।

আজ (শুক্রবার) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি সম্পত্তি হস্তান্তর এবং আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, এ আইনের মাধ্যমে বয়স্ক বাবা-মায়েরা তাদের জীবদ্দশায় হস্তান্তর করা সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন এবং এতে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

চিফ হুইপ গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আইন নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এসব আইন প্রণয়নের আগে রাষ্ট্রদূত, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের মতামত বিবেচনা করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টি কমিটিতে তিনজন করে বিরোধীদলীয় সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকিগুলোতে দুজন করে বিরোধীদলীয় সদস্য রাখা হয়েছে। 

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্কের অবনতি হয়নি, বরং তা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের