প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জ্বালানির মূল্য বাড়ায় বাসভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নেবে সরকার।
মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও রাশিয়ায় জ্বালানি খাতে ইউক্রেনের আক্রমণসহ বৈশ্বিক নানা কারণে দেশে জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি রয়েছে। বাসভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ভূমিকা নেবে।
গ্যাস কূপ খনন নিয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুন আরও নয়টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে ১৫০টি কুপ খননের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬টি নতুন কূপ খনন, ৮টি বন্ধ কূপ সচলের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘটফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার ৫টি প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়া আরও ৯টি নতুন কূপ খনন, ১২টি বিদ্যমান কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে বলে আশা করা যায়। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ হতে ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন অ্যাকটিভিস্ট হিসেবেও জ্বালানি নিয়ে কথা বলতাম, তখন এই আলাপটা করতাম যে, আমাদের দেশেই প্রচুর গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেটা আমরা এক্সপ্লোর না করে আমদানি নির্ভরতার দিকে গিয়েছিলাম। আপনারা জানেন, নতুন গ্যাসফিল্ড খোঁজার জন্য জরিপ চালাতে হয়। সেই জরিপের কাজ চলমান। অর্থাৎ নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে।’
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, সরকার বিশাল অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে। মানে এখন বাজারমূল্য অনুযায়ী ডিজেলে লিটারপ্রতি বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা, দৈনিক লোকসান ১০৯ কোটি টাকা এবং কেবল ডিজেলে ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে।’
বোয়িং ক্রয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বোয়িং কিনছে এটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকালে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে কোনো বৈঠক বা নিশ্চিত কর্মসূচি আমার জানা নেই। তবে বোয়িং কেনার বিষয়ে একটি চুক্তি হতেও পারে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

