বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন সবাই। কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন। নামাজ শেষে ভোটের লাইনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন।’
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী জনসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে ১৫ বছর। মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, গুম-খুন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমেছে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার দাবিতে। এবারও একটি দলের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। মা-বোনদের আইডি কার্ডের নম্বর নিচ্ছে, বিকাশ নম্বর নিচ্ছে তারা।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা মা-বোনের সম্মানহানি করেছে তারা এই কাজগুলি করছে। ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমি যাদের দায়িত্ব দিয়েছি জেলায় তাদের ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়ী করে দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী মাসের ১২ তারিখে জাতীয় নির্বাচন। প্রত্যেক মানুষের অধিকার রয়েছে ভোটের। দেশ আপনাদের দায়িত্ব দিয়েছে ভোটের। আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল গত ১৫ বছর। হাজার হাজার মানুষের জীবনের বিনিময়ে ১৫ বছর পর মানুষ ভোটের অধিকার পেয়েছেন। তাই এবার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
‘ভোট দিলেই আমাদের চলবে না। আপনারা নির্বাচন করবেন তাদের, যারা আপনাদের জন্য কাজ করবে’, বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সিলেট থেকে ভৈরব আসতে দেখেছি রাস্তাগুলোর দুরবস্থা। মহাসড়কই নয় সারাদেশে জেলা উপজেলার রাস্তাগুলো খুব খারাপ অবস্থা। এ দেশের হাসপাতালগুলোতে ঔষধ নেই। এ দেশে রয়েছে বেকারত্বের সমস্যা। আমাদের এ দেশকে নিয়ে পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে। এ দেশ পুনর্গঠনের মালিক আপনারা। আপনারা এ দেশের জনগণ। আপনারই ঠিক করবেন এ দেশ কারা ঠিক করবে। এ দেশের গরিব পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড করে দেওয়া হবে।
দেশের উন্নয়ন চাইলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুব সমাজের অনেক বেকার ভাইয়েরা রয়েছে তাদের আমরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবো। প্রতি জেলায় ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করতে চাই। ট্রেনিং করে যেন যুবকেরা দেশ বিদেশে কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করবো। মসজিদ মাদ্রাসার ইমামদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করতে চাই। বিএনপির সরকার গঠন করলে এইসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
বক্তব্য শেষে কিশোরগঞ্জ জেলার ৬ সংসদীয় আসনের ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম ধানের শীষে মনোনীত প্রার্থীদের। আপনার ভোটের মাধ্যমে তাদের জয়যুক্ত করাবেন। তাদের জয়যুক্ত করে আপনারা আপনাদের হিসাব বুঝে নিবেন। আপনার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বুঝে নিবেন। আপনাদের যে কোন সমস্যার সমাধান বুঝে নিবেন।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজী মো. শাহীনের এর সঞ্চালনায় শুরুতে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী, জেলা বিএনপির নেতাসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা জজ কোর্টের পিপি ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ।
এদিকে ভৈরবের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বিকেল সাড়ে ৫টায় অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

