নদী জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে কার ভালো লাগে এবং কার লাগবে না, এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দশ দলীয় ঐক্য জোট কর্তৃক আয়োজিত রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে নিষ্পেষিত ছিল। মানবিক যে অধিকার পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া হয় নাই। কানাডার বিশাল একটা জায়গায় শুধুমাত্র পালিয়ে যাওয়া লোকেদের পরিবার থাকে। যেহেতু ওই সমস্ত জায়গায় তাদের বেগমরা থাকে, তাই নাম দিয়েছে বেগম পড়া। এতো লুটপাট করে কি লাভ হলো? শান্তি তো পেলেন না। আপনারা আলেম-ওলামাদের খুন করেছেন। একটা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য একটা নারীকে ছিন্নভিন্ন করেছিলেন। আমাদের মা-বোনেদের ইজ্জত আব্রু নিয়ে নোংরামো করার চেষ্টা করেছেন। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে ২৪ এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে হত্যা, আহত, গুম করা হয়েছে। জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জামায়াতের এগারোজন সিনিয়র নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এক হাজারের উপরে আমাদের নেতাকর্মীদের খুন করা হয়েছে। শত শত মানুষকে গুম আয়না ঘরে নিয়েছিল। ৫ তারিখের পর আমাদের আশা ছিল শান্তিতে বসবাস করব। কিন্তু আমাদের আশায় গুড়ে বালি। রংপুরের মানুষ শান্তশিষ্ট। তারা অল্পে তষ্ট। আমরা ছিলাম সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। আমরা নিরীহ কোন মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করি নাই। নিরপরাধ কারো নাম ঢুকে গেলে আমরা তাদের মুক্ত করে দিয়েছি। কাউকে ছাড়ানোর জন্য খাজনা চাই নাই। আমরা চাই চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত, অসৎ ও প্রতারক মুক্ত বাংলাদেশ। কোন অসৎ মজার মজার মিথ্যা ওয়াদা দিলে তাদের লাল কার্ড দেখাবেন। এই দেশে আমরা চারটি ধর্মের মানুষ বসবাস করি। আল্লাহ আমাদের নিজ ইচ্ছায় এই দেশে পাঠিয়েছে। আল্লাহ সকল ধর্মের মানুষের জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করেছে। মুসলমান অন্য কোন ধর্মের উপর কোন ক্ষতি করতে পারে না। আমরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরান বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে প্রিয় গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে তৈরি করতে চাই।
ডা.শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোন বেকার ভাতা দিতে চাই না। বেকারভাতা বেকারের কারখানা তৈরি করে। আমরা নারী-পুরুষকে কাজ দিতে চাই। আমরা দেশের নারী-পুরুষকে সম্পদে পরিণত করতে চাই। আমাদের সকলের ঘরে মা-বোন আছে। সুতরাং নারীরা ঘরে কাজ করতে পারলে বাহিরেও সম্মানের সাথে কাজ করতে পারবে। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। আমরা নারী কোন ধর্মের তা দেখব না। আমরা দেখব কতটুকু যোগ্যতা সম্পন্ন। যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের মা-বোনদের সম্মানজনক কাজ দেওয়া হবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আমাদের সাথে সবাই আসতে পারবেন। তবে আসতে হলে তিনটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত দুর্নীতি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত : ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ইচ্ছা থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থায় কোন হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তৃতীয়ত : গত ৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি বাদ দিয়ে আসতে হবে। গত ৫৪ বছরের রাজনীতি দেশকে শুধু পিছনের দিকে নিয়ে গিয়েছে। আমরা উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ। উত্তরবঙ্গে প্রয়োজনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। আমরা বলেছিলাম কারো কোন ক্ষতি করব না, আমরা করি নাই।
দশ দলীয় ঐক্য জোটের সমাবেশে আরও বক্তব্য দিয়েছেন, জামায়াত নেতা এটিএম আজহার, এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

