আমরা এমন কোনো কাজ করিনি, যার জন্য শেখ হাসিনার মতো পালাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইমামবাড়ী দরবার শরীফ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রচারণায় ব্যস্ত। যেখানে তারা যাচ্ছেন, সেখানেই হাজার হাজার, এমনকি লাখ লাখ মানুষের সমাগম হচ্ছে। গত ১৬ বছরে মানুষ ভালো নির্বাচন দেখেনি। সকালে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছে ব্যালট আগেই চুরি হয়ে গেছে, তাদের সামনে দিয়ে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ বলেছে—আপনার আসার দরকার নেই। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ মুক্তি চায়।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের প্রচারণায় উপদেষ্টারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যাচ্ছেন। আগে ভোটের গাড়ি ছিল ১০টি, এখন তা বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়েছে। এসব গাড়ি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যাচ্ছে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় এই ভোটের গাড়ি যাবে। এতে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।
সরকারিভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা কি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড বা তুরস্কের অভিজ্ঞতা দেখেছেন? গণভোট হলে সব দেশেই সরকার একটি অবস্থান নেয়। সরকার একটি মত প্রকাশ করে এবং জনগণকে সেই অনুযায়ী ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়—এটাই আন্তর্জাতিক চর্চা। বর্তমান সরকার কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সে বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড পেজে ব্যাখ্যা দিয়েছি।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। প্রচারণার পর বিশাল বিশাল র্যালি হচ্ছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিচ্ছে। এসবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যোগ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের অধিকার ও মিডিয়া সংস্কার প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের কিছু বিষয় আরও সহজ করা হয়েছে। সূচিপত্র প্রণয়ন, রিপোর্টিং পদ্ধতি এবং তথ্যের ওপর সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা—এসব বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। এই সরকার মাত্র ১৮ মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছে। এত অল্প সময়ে সবকিছু করা সম্ভব নয়। ভালো একটি রাস্তা নির্মাণ করতেও পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে এই সময়ে যেগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলো সরকার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারও জন্য ‘সেফ এক্সিট’-এর প্রশ্নই ওঠে না। আমরা এমন কোনো কাজ করিনি, যার জন্য শেখ হাসিনার মতো পালাতে হবে। যারা এই প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্য নিয়েই আমার সন্দেহ আছে।
বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে আমি গর্বিত। আমি বাংলাদেশেই থাকব, এই মাটিতেই থাকব। আল্লাহ রিজিকের মালিক—যে কাজ পাব, সেই কাজই করব, যোগ করেন তিনি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

