এমন প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, যা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব

সোমবার,

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৬ মাঘ ১৪৩২

সোমবার,

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৬ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

ঢাকার জনসভায় তারেক রহমান

এমন প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, যা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৫৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
এমন প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, যা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করেছে। তবে এই নির্বাচন হতে হবে দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন, এই নির্বাচন হতে হবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের নির্বাচন। আমরা জনগণের কাছে এমন প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, যা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করার পরদিন থেকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব।

রোববার ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে ঢাকা-১৭ আসনসহ আরও ছয়টি জনসভায় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব জনসভায় প্রতিটি আসনের বিএনপি প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পক্ষে ভোট চান।

আজ জনসভার শুরুতেই মিরপুরের ইসিবি চত্বরে এক পথসভায় এলাকার জনগণের উদ্দেশে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের ভোটে এবং এই দেশের মানুষের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পুরো দেশের শহর ছাড়াও এই ঢাকা শহরকে একটি নিরাপদ শহরে রূপান্তরিত করতে চাই। যে শহরে মা-বোনেরা নিরাপদে নিশ্চিন্তে যে কোনো সময়ে হাঁটতে পারবেন, যে শহরের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি করতে পারবেন। 

ঢাকা-১৭ আসনের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকায় খেলার মাঠ নেই। বিএনপি সরকার গঠন করলে শুধু এই এলাকায় নয়, ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। যাতে আমাদের সন্তানেরা খোলা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে। 

যে কোনো মূল্যে রাজধানীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বিগত স্বৈরাচারের সময় কীভাবে উন্নয়নের নামে দেশ থেকে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতি। আমরা যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি না কেন, যদি আমরা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারি– তাহলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা অত্যন্ত দুর্বল ব্যাপার হয়ে যাবে। সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য, সেগুলো সুফল যাতে জনগণ পায় তার জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে।

বিকেলে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে নির্বাচনী পথসভায় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপি কী করতে চায়– তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষের সামনে আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছি নারীদের কীভাবে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। ছাত্রদের লেখাপড়ার জন্য কী ব্যবস্থা করতে চাই? কীভাবে আমরা বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই? কীভাবে আমাদের ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই? সেখানে আমরা উল্লেখ করেছি যে, কীভাবে আমরা আমাদের কৃষক ভাইয়েরা যারা পরিশ্রম করে, আমাদের খাদ্যের জোগান দেন, সেই কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চাই। সেখানে আমরা সুন্দরভাবে উল্লেখ করেছি, আপনাদের এলাকার সন্তান আমিনুল হকের (ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক) মতো শত শত আমিনুল কীভাবে আমরা তৈরি করতে পারি।

আমাদের সামনে একটি বিশাল বড় কাজ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। আজকে সময় এসেছে আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। আমাদের অনেক সহকর্মীসহ অরাজনৈতিক অনেক ব্যক্তি বিভিন্নভাবে এক যুগের বেশি সময় ধরে নির্যাতিত হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন। নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমরা আমাদের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত হয়েছি, যেখানে আমরা নিজেদের রায় দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। পরবর্তী ধাপ হচ্ছে এই দেশকে পুনর্গঠন করা। এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এটি হবে আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। 

ঢাকা-১৪ আসনের মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে ’৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ’২৪-এর জুলাইয়ের শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে বিএনপি। 

জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ধর্মের কথা বলে একটি গোষ্ঠী মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। দেশের সরল মা-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের বিভ্রান্ত করছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দিচ্ছে। তাদের ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়ার ভন্ডামি শুরু করেছে। নকল সিল তৈরি করতে গিয়ে একটি দলের লোকজন ধরা পড়েছে। 

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই কেড়ে নেওয়া অধিকার ফিরে পাওয়ার দিন। দেশের মানুষের মুক্ত বাতাসে গণতন্ত্রকে উপভোগ করার দিন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ঢাকা-১৪ আসনে দ্রুত একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

বিকেলে মিরপুর ১০ নম্বর সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। ঢাকা-১৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। আসনটিতে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতিতে এই দেশের নারী বা মা-বোনদের জন্য কী করতে চাই, ছাত্রসমাজের জন্য কী করতে চাই, লাখো কোটি বেকার মানুষের কর্মসংস্থান কীভাবে করব এবং কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব– তা তুলে ধরেছি। 

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য প্রতিটি ঘরে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

গত ১৬ বছরে মানুষের ভাগ্যের মেগা পরিবর্তন হয়নি মন্তব্য করে বিএনপিপ্রধান বলেন, ১৬ বছরে কীভাবে মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের মেগা পরিবর্তন হয়নি। আমরা দেখেছি, মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে; কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। শুধু কিছু সংখ্যক মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের