আকাশে উল্কাবৃষ্টির ঝলক, দেখা যাবে বুধবার

শনিবার,

১৮ জুলাই ২০২৬,

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

শনিবার,

১৮ জুলাই ২০২৬,

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

আকাশে উল্কাবৃষ্টির ঝলক, দেখা যাবে বুধবার

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:১৫, ৫ মে ২০২৬

Google News
আকাশে উল্কাবৃষ্টির ঝলক, দেখা যাবে বুধবার

মহাকাশপ্রেমীদের জন্য চলতি সপ্তাহে দারুণ এক দৃশ্য অপেক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার দিনগত রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় বুধবার আনুমানিক বেলা ১১টার পর থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত)  আকাশে দেখা যাবে ‘এটা অ্যাকুয়ারিড’ (Eta Aquariid) উল্কাবৃষ্টি। আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির তথ্যমতে, বুধবার ভোরের ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টা এ দৃশ্য দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

সোসাইটির ফায়ারবল রিপোর্ট সমন্বয়কারী রবার্ট লুনসফোর্ড বলেন, ‘ভোরের আগের শেষ কয়েক ঘণ্টাই এ উল্কাবৃষ্টি দেখার একমাত্র সুযোগ।’ এর কারণ হলো, আকাশের ‘অ্যাকুয়ারিয়াস’ বা কুম্ভ রাশি অর্থাৎ যেখান থেকে উল্কাগুলো ছড়িয়ে পড়ে, তা রাত ৩টার আগে দিগন্তের ওপরে দেখা যায় না।

সাধারণত দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো থেকে এ উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। বিষুবরেখার নিচের দেশগুলো থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৪০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে উত্তর গোলার্ধে এর দৃশ্যমানতা কিছুটা কম। আদর্শ পরিবেশে ঘণ্টায় ২০টি উল্কা দেখার সুযোগ থাকলেও এবার উজ্জ্বল চাঁদের আলোর কারণে সেই সংখ্যা ১০-এর নিচে নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আর্থস্কাই।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, এই উল্কাগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির—প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪৪ মাইল বা ৬৪ কিলোমিটার বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। দ্রুতগতির কারণে অনেক সময় উল্কা মিলিয়ে যাওয়ার পরও আকাশে আগুনের মতো আলোর রেখা কিছুক্ষণ দৃশ্যমান থাকে।

যেভাবে দেখবেন

উল্কাবৃষ্টি দেখতে চাইলে শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে অন্ধকার জায়গায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চাঁদের উজ্জ্বল আলো এড়াতে কোনো বড় গাছের আড়ালে বা ছায়ায় দাঁড়ানো যেতে পারে। খোলা আকাশের নিচে শুয়ে বা বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে এবং চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় দিতে হবে। এরপরই আবছা উল্কাগুলো আপনার নজরে আসতে শুরু করবে।

এ উল্কাবৃষ্টির মূল উৎস হলো বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতু (১পি/হ্যালি)। বছরে দুবার পৃথিবী যখন এ ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও পাথুরে অবশিষ্টাংশের কক্ষপথ অতিক্রম করে, তখনই উল্কাবৃষ্টি হয়। মে মাসে হয় ‘এটা অ্যাকুয়ারিড’ এবং অক্টোবর মাসে হয় ‘অরিওনিড’ উল্কাবৃষ্টি। বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি ১৭০৫ সালে ই ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেন। সবশেষ ১৯৮৬ সালে এটি দেখা গিয়েছিল। ৭৬ বছরের কক্ষপথ হওয়ায় ২০৬১ সালের আগে এটি আর পৃথিবীর আকাশে ফিরছে না।

২০২৬ সালের পরবর্তী উল্কাবৃষ্টির সময়সূচি:

সাউদার্ন ডেল্টা অ্যাকুয়ারিড: ৩০-৩১ জুলাই

আলফা ক্যাপ্রিকর্নিড: ৩০-৩১ জুলাই

পারসেইড: ১২-১৩ আগস্ট

অরিওনিড: ২১-২২ অক্টোবর

লিওনিড: ১৬-১৭ নভেম্বর

জেমিনিড: ১৩-১৪ ডিসেম্বর

উরসিড: ২১-২২ ডিসেম্বর

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের