৬ মিনিটের বেশি অন্ধকারে ডুববে যেসব শহর

মঙ্গলবার,

১৮ আগস্ট ২০২৬,

৩ ভাদ্র ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

১৮ আগস্ট ২০২৬,

৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

৬ মিনিটের বেশি অন্ধকারে ডুববে যেসব শহর

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৪১, ১৮ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৯:৪৩, ১৮ আগস্ট ২০২৬

Google News
৬ মিনিটের বেশি অন্ধকারে ডুববে যেসব শহর

প্রাচীন মন্দির, সমাধি আর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ‘ওপেন-এয়ার মিউজিয়াম’ মিশরের লুক্সর। আগামী বছর এই ঐতিহাসিক শহরই হতে যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার অন্যতম প্রধান দর্শনস্থল। ২০২৭ সালের ২ আগস্ট লুক্সরসহ উত্তর আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।

এই সূর্যগ্রহণের পূর্ণতার সর্বোচ্চ সময় হবে প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২১১৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও এর চেয়ে দীর্ঘ সময়ের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না।

যেসব অঞ্চলে দেখা যাবে

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল, জিব্রাল্টার ও মরক্কোর উত্তরাংশ পেরিয়ে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিসর, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরে গিয়ে শেষ হবে।

পূর্ণগ্রহণের পথটি সর্বোচ্চ প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার (১৬১ মাইল) পর্যন্ত প্রশস্ত হতে পারে। ফলে স্পেনের কাডিজ, মরক্কোর ট্যাঙ্গিয়ার, আলজেরিয়ার ওরান, লিবিয়ার বেনগাজি ও সৌদি আরবের জেদ্দার মতো শহর থেকেও এই বিরল দৃশ্য দেখা যাবে।

তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর একটি লুক্সর। নীল নদের দুই তীরে গড়ে ওঠা এই শহরের এক পাশে কিংস ভ্যালি, অন্য পাশে কুইন্স ভ্যালি। সেই প্রাচীন স্থাপনাগুলোর ওপর দুপুরের আকাশে কয়েক মিনিটের জন্য সূর্যের আলো ঢেকে দেবে চাঁদের ছায়া।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী অধ্যাপক রজার ডেভিসের মতে, এত দীর্ঘ সময়ের পূর্ণগ্রহণ পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা হবে অসাধারণ। প্রায় সাড়ে ছয় মিনিটের অন্ধকারে মানুষের চোখ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় পাবে। ফলে সাধারণত দেখা যায় এমন উজ্জ্বল তারা ও গ্রহের পাশাপাশি আরও অনেক নক্ষত্রও দৃশ্যমান হতে পারে।

লুক্সরে আবহাওয়া অনুকূলে, তবে তাপমাত্রা চ্যালেঞ্জ

সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য লুক্সরের অন্যতম সুবিধা হলো আগস্টে সেখানকার আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত থাকে। তবে সাহারা ও আরব মরুভূমি থেকে উড়ে আসা ধুলা দৃশ্যমানতায় কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে তীব্র গরম। আগস্টে লুক্সরের দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে। গ্রহণের সময় তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ক্যামেরা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি অতিরিক্ত তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

লুক্সরে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের কিছু পর আংশিক গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। পূর্ণগ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছাবে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫ মিনিটে।

পর্যটকের ঢল নিয়ে উদ্বেগ

বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক লুক্সর ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পূর্ণগ্রহণের পথ তুলনামূলক সরু হওয়ায় একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে অবস্থান করলে হোটেল, সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে।

ইতোমধ্যে লুক্সরের অনেক হোটেলের কক্ষ বুক হয়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যটন প্যাকেজও দ্রুত পূর্ণ হচ্ছে। কিছু বিলাসবহুল প্যাকেজের খরচ জনপ্রতি কয়েক হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

কায়রোতেও দেখা যাবে বিরল দৃশ্য

মিসরের রাজধানী কায়রো পূর্ণগ্রহণের মূল পথের বাইরে থাকলেও সেখানে সূর্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে কায়রোভিত্তিক ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকসও বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কোটামিয়া অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরিতে থাকা প্রায় ৫০ টন ওজনের বিশাল টেলিস্কোপ দিয়েও গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা হবে।

২০২৭ সালের এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তাই শুধু পর্যটকদের জন্য নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্যও হতে যাচ্ছে একটি বিশেষ গবেষণার সুযোগ। সূত্র: সিএনএন

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের