পুরো বাংলাদেশ বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা–দুই শিবিরে বিভক্ত, সোশাল মিডিয়ায় চলছে দুই পক্ষের মিমযুদ্ধ। তবে ঢাকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত দিলেন শান্তির বার্তা।
শুক্রবার সকালে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেসের পাশে বসে তার কাঁধে হাত রেখে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বললেন, ‘আমরা কিন্তু বন্ধু।’ আর তার কথার পিঠে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত বললেন, ‘আপনারা শান্তি বজায় রাখুন, মারামারি করবেন না। শুধু খেলাটা উপভোগ করুন।’
তারা এসেছিলেন দেশের প্রথম এয়ারলাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (এএফসি) টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। প্রতি দলে ছয় জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে ছোট মাঠের এই ফুটবল (ফুটসাল) টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে দেশি-বিদেশি ১৬টি এয়ারলাইন্স। দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল হবে ৪ জুলাই।
এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলপ্রেমী। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে মানুষের যে আবেগ ও উন্মাদনা, তা বিশ্বজুড়েই পরিচিত।’
সেই ফুটবল ভালোবাসাকে ধারণ করেই এ ধরনের আয়োজন দেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একদিন বাংলাদেশের ফুটবলও এমন অবস্থানে পৌঁছাবে, যখন দেশের মানুষ নিজেদের জাতীয় দলকে নিয়েও একই রকম আবেগ ও উন্মাদনায় উদযাপন করবে। প্রসারে এমন উদ্যোগ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো বলেন, ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি আনন্দেরও প্রতীক। জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে খেলাটিকে উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফুটবল শান্তি ও সম্প্রীতির খেলা। প্রিয় দলকে সমর্থন করুন, আনন্দ করুন, তবে সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে শুধু মাঠে, মাঠের বাইরে নয়।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, ফুটবল বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করে। বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল—সব দেশের মানুষের মধ্যে এই খেলাটি বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের ফুটবল আরও এগিয়ে যাক এবং দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে—সেই প্রত্যাশা রাখেন আর্জেন্টিনার দূত। একইসঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদও উপস্থিত ছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স এর মধ্যে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

