‘আমার ছেলেই মেসিকে থামাবে’, পিকের মায়ের হুঙ্কার

শুক্রবার,

০৩ জুলাই ২০২৬,

১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

শুক্রবার,

০৩ জুলাই ২০২৬,

১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

‘আমার ছেলেই মেসিকে থামাবে’, পিকের মায়ের হুঙ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:০১, ২ জুলাই ২০২৬

Google News
‘আমার ছেলেই মেসিকে থামাবে’, পিকের মায়ের হুঙ্কার

বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসিকে সামলানো যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই এক দুঃস্বপ্নের মতো। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে প্রতিপক্ষ দলে ফুটবল জাদুকর মেসি থাকলেও বিন্দুমাত্র বিচলিত নন কেপ ভার্দের নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক রবার্তো পিকে লোপেসের মা জুডি লোপেস। বরং তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচে বিশ্বসেরা তারকাকে বোতলবন্দী করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত তাঁর ছেলে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম খেলতে এসেই চমক দেখিয়েছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দল সংবলিত কঠিন গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে তারা। এবার মায়ামিতে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। যেখানে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা আর প্রতিপক্ষের আক্রমণের নেতৃত্বে আছেন চলতি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ৬ গোল করা লিওনেল মেসি।

তবে ছেলের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে জুডি লোপেসের। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মেসির বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগে পিকো (পিকে) ভয় পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো রোমাঞ্চ অনুভব করছে। সে প্রচণ্ড শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছেলে, চাপের মুখে নিজের সেরাটা দেওয়াই ওর স্বভাব। মাঠের বাইরে কে কী আলোচনা করছে, তা নিয়ে ও একদমই ভাবছে না।

ছেলের দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে জুডি আরও বলেন, অনেকেই হয়তো জানেন না লোপেস কতটা অভিজ্ঞ। ও দুটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনস খেলেছে এবং আয়ারল্যান্ডের ক্লাব শ্যামরক রোভার্সের হয়ে টানা এক দশক রক্ষণ সামলেছে। তাই এই ম্যাচে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। চ্যালেঞ্জটি ও দারুণভাবে উপভোগ করবে।

চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথার মূল ভিত্তিই হচ্ছে তাদের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি তারা গোলশূন্য ড্র করে। পুরো গ্রুপ পর্বে তারা গোল হজম করেছে মাত্র দুটি। যেখানে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার সঙ্গে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ছিলেন পিকে লোপেস।

নিজের ছেলে বিশ্বকাপে খেলবে, তাও আবার মেসির বিপক্ষে-এমনটা কখনো কল্পনাও করেননি ডাবলিনের একটি স্কুলে সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত জুডি। হাসতে হাসতে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, হয়তো মেসিও এখন পিকোর খেলার ভিডিও বিশ্লেষণ করছেন আর ভাবছেন কীভাবে এই রক্ষণপ্রাচীর ভাঙা যায়!

গ্রুপ পর্ব শেষ করে আয়ারল্যান্ডে নিজের কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছিলেন জুডি। তবে ফুটবল রূপকথার অংশ হতে এখন স্বামী ও পরিবারসহ আবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে তাঁর স্কুলের শিক্ষার্থীরা পিকের জন্য একটি বিশেষ পোস্টার বানিয়ে দিয়েছিল, যাতে ইতিমধ্যে কেপ ভার্দে দলের সব খেলোয়াড় অটোগ্রাফ দিয়েছেন।

আর্জেন্টিনা যে এই ম্যাচের পরিষ্কার ফেবারিট, তা অকপটে স্বীকার করেছেন জুডি। তবে ফুটবল মাঠে যে যেকোনো মুহূর্তে পাশা উল্টে যেতে পারে, সেই বিশ্বাসও তাঁর মনে প্রবল। জুডি লোপেস বলেন, এই মুহূর্তে কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রিয় আন্ডারডগ। মাঠের ৯০ মিনিটে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনই লড়বে। রূপকথার এই যাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের