সোমবার,

১৫ এপ্রিল ২০২৪,

২ বৈশাখ ১৪৩১

সোমবার,

১৫ এপ্রিল ২০২৪,

২ বৈশাখ ১৪৩১

Radio Today News

কম খরচে ত্রিপুরা রাজ্য ভ্রমণ

রেডিও টুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ৬ জানুয়ারি ২০২৩

Google News
কম খরচে ত্রিপুরা রাজ্য ভ্রমণ

সংগৃহীত ছবি

ভ্রমণের ক্ষেত্রে বেশ আকর্ষণীয় দেশ হলো ত্রিপুরা। ঘুরতে গেল বেশি একটা খরচে প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেমন দার্জিলিং, হিমাচল প্রদেশ, গোয়া, মেঘালয়,কাশ্মীর ইত্যাদি দেশগুলো ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল। ত্রিপুরা রাজ্যে ঘুরতে যাওয়া অনেকটাই কমখরচের।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা একটি আদর্শ গন্তব্য হতে পারে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য। বাংলাদেশ থেকে যে কেউ ত্রিপুরা রাজ্য বা সেখানকার শহরবাসীদের দেখলে মনে হবে না যে এটি দেশের একটি বাইরের স্থান। কারণ সেখানকার অভ্যর্থনা ও আন্তরিকতার কোন কমতি হয় না বাংলাদেশীদের জন্য।

ত্রিপুরা রাজ্যের আশেপাশের শহর এবং এর বাইরে রয়েছে চমৎকার সব দর্শনীয় ও রহস্যময় স্থানসমূহ। এসব স্থানগুলোতে ঘোড়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত।
চলুন তাহলে দেরি না করে জেনে আসি ত্রিপুরা ভ্রমণে কোন কোন স্থান গুলো ঘোরার জন্য উপযুক্ত :

১. ত্রিপুরা রাজ্য ভ্রমণের একটি অন্যতম ও জনপ্রিয় স্থান হল কমলা সাগর লেক। এখানে রয়েছে একটি বিখ্যাত কালী মন্দির যেখানে প্রতিবছরের এপ্রিল ও আগস্ট মাসে মন্দির প্রাঙ্গণে বিশাল মেলা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে আসে দূর দূরান্ত থেকে অনেক ভক্ত ও পর্যটকেরা। আগরতলা শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। কমলা সাগর লেক সমগ্র ত্রিপুরা রাজ্যের সেরা পিকনিক স্পট গুলোর মধ্যে একটি।

২. শীর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের আরেকটি স্থান হল জাম্পুই হিলস। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় তিন হাজার ফুট। আগরতলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায়  ২১৮ কিলোমিটার। এখানে রয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে নির্মাণ একটি শিব মন্দির। ত্রিপুরা বাসীর কাছে এটি একটি বেশ পবিত্র স্থান।

৩. মিশ্র স্থাপত্য শৈলীদের নির্মিত আগরতলা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে আধা মাইল এলাকা জুড়ে অবস্থিত রয়েছে একটি উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ। মহারাজা রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুর উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা। প্রাসাদটির আশেপাশে জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন রকমের কারু কাজ। উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের প্রবেশ পথের ঠিক মাঝখানে ফোয়ারা আর ভাস্কর্য সমৃদ্ধ একটি চমৎকার বাগান রয়েছে। এই প্রাসাদের ভিতরে রয়েছে সারি সারি ঘর এগুলোর আবার রয়েছে আলাদা আলাদা নাম। যেমন: আরাম ঘড়, সদর বাড়ি, শেতমোহল, তহবিল থানা, লালমহল,পান্থশালা প্রভৃতি। এই প্রাসাদের নামকরণ করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৪. ত্রিপুরা রাজ্যের সেরা পর্যটন কেন্দ্র হল নীর মহল। ত্রিপুরা গিয়ে এই নীরমহল ঘুরতে না গেলে পুরোপুরি বৃথা হয়ে যাবে ভ্রমণ। ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে মাত্র ৫৩ কিলোমিটার দূরে এই স্থানটির অবস্থান। রূপকথার রাজপ্রাসাদের মতো দাঁড়িয়ে আছে রুদ্রসাগর নামে একটি লেকে ঠিক মাঝখানে এই নীরমহল। নির্মহলে পৌঁছাতে গেলে আপনাকে চড়তে হবে নৌকায়। স্থানটিতে গেলে আপনি নীরমহল প্রাসাদ ও রুদ্রসাগর দুটোরই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

কি ভাবছেন কিভাবে যাবেন?

আপনি দেশের যেকোনো প্রান্তেই থাকুন না কেন ত্রিপুরা যেতে আপনার কোন চিন্তাই করা লাগবে না। ট্রেনে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্টেশনে প্রথমে পৌঁছাতে হবে। এরপরে রিক্সা কিংবা অটোতে করে চলে যেতে হবে সীমান্ত চেকপোস্টে। সেখানকার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে অটোরিকশায় করে চলে যেতে পারেন সোজা ত্রিপুরার আগরতলায়।

পৌঁছানোর পর থাকা-খাওয়ার চিন্তা--- একদমই না।
এখানে থাকা খাওয়ার মত অনেক ভালো ভালো হোটেল রয়েছে। সেখানকার উল্লেখযোগ্য হোটেল গুলোর মধ্যে হল : হোটেল একসিকিউটিভ ইন, সোনার তরী, হোটেল সমরাজ রিজেন্সি, জয়পুর প্যালেস, এবং হোটেল গ্রীন টাচ প্রভৃতি।

এস আর

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের