২০২৭ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে পারে

শনিবার,

২২ আগস্ট ২০২৬,

৭ ভাদ্র ১৪৩৩

শনিবার,

২২ আগস্ট ২০২৬,

৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

প্রশান্ত মহাসাগরে দানা বাঁধা ‘এল নিনো’

২০২৭ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে পারে

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ২২ আগস্ট ২০২৬

Google News
২০২৭ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে পারে

প্রশান্ত মহাসাগরে দানা বাঁধা ‘এল নিনো’ স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর। এর প্রভাবে ২০২৭ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে পারে বলেও শঙ্কা আবহাওয়াবিদদের। এরই মধ্যে এল নিনোর প্রভাবে ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে কমেছে বৃষ্টিপাত। আটলান্টিকে হারিকেন সৃষ্টির তীব্রতা কমে আসার প্রমাণও পাওয়া গেছে। আর পানির স্তর নেমে যাওয়ার শঙ্কায় সেপ্টেম্বর থেকে পানামা খালে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কোথাও তাপমাত্রার ঊর্ধ্বমুখী পারদ, কোথায় অব্যাহত হিটওয়েভের মাঝে দাবানল-খরা, আবার কোথায় ভারী বৃষ্টিতে বন্যা-ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানি; কয়েক মাস ধরে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা প্রায়ই নিয়মিতই ঠাঁই পাচ্ছে সংবাদের শিরোনামে।

আর প্রতিবারই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরে দানা বাঁধা জলবায়ু পরিস্থিতি এল নিনোকে। তবে সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য এটি দায়ী না হলেও, এর প্রভাবে ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত ও আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেন সৃষ্টির তীব্রতা কমে আসার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও, শুক্রবার এল নিনোর প্রভাব সম্পর্কে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর। প্রশান্ত মহাসাগরে দানা বাঁধা এই বিশেষ জলবায়ুগত প্রক্রিয়াটি স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী রুপ নিতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়াবিদরা। এর প্রভাবে ২০২৭ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর গোলার্ধে শরৎ ও শীতকালে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যসহ উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে আরও আর্দ্র ও ঝড়ো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. থিওডোর কিপিং বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন স্বাভাবিক আবহাওয়ার প্যাটার্নের ওপর ধারবাহিক প্রভাব ফেলছে। সেখানে “এল নিনো” তাপপ্রবাহ, খরা বা অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘এল নিনো চক্র’ পরিবর্তিত হচ্ছে কি না তা নিয়ে বিভক্তিতে আবহাওয়াবিদরা। তবে উষ্ণায়নের ফলে এর আবহাওয়াগত প্রভাব আরও চরম হওয়ার শঙ্কা করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

ড. থিওডোর কিপিং আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনো-লা নিনো চক্র পরিবর্তিত হচ্ছে কি না, তা আমরা জানি না। তবে যখন এল নিনো ঘটে, স্বাভাবিক সময়ে আমরা যে আবহাওয়ার ধরন দেখি, তা অনেক বেশি পরিবর্তিত হয়।’

এদিকে, অব্যাহত খরার কারণে পানির স্তর নেমে যাওয়ার শঙ্কায় সেপ্টেম্বর থেকে পানামা খালে দৈনিক জাহাজ চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দৈনিক ৩৪টি জাহাজ চলাচল করবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের