শুক্রবার,

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,

২ আশ্বিন ১৪২৮

পরীক্ষামূলক প্রকাশ

শুক্রবার,

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,

২ আশ্বিন ১৪২৮

Radio Today News

দালালদের স্বর্গরাজ্য কুড়িগ্রাম বিআরটিএ

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ২১:০৩, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

দালালদের স্বর্গরাজ্য কুড়িগ্রাম বিআরটিএ

ফাইল ছবি

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সার্কেল বিআরটিএ অফিসে মোটরযান পরিদর্শক ছাড়াও পাঁচজন রাজস্ব স্টাফ থাকলেও বিআরটিএ অফিস এখন চলছে মূলত মোটরযান পরিদর্শক মো. মাহবুবার রহমানকে দিয়ে। মোটরযান পরিদর্শকের বাড়ি নিজ জেলায় হওয়ায় কাউকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে, তার ছত্রছায়ায় রেখেছেন ১০ জনের অধিক একটি দালাল চক্র।

এই দালালচক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন আশরাফ আলী। তিনি নিজস্ব প্রাইভেট কারে চড়ে অফিসে আসেন এবং সরকারি চেয়ার টেবিল ব্যবহার করে মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্সের লার্নার, গাড়ির ফিটনেস, পারমিট, হেভি ড্রাইভিং লাইসেন্স, নতুন মোটর সাইকেলের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাজ করে প্রকাশ্যে টাকা পয়সা লেনদেন করেন। আশরাফ আলীর সাথে কথা বলে কারো অনুমান করার সাধ্য নেই যে, তিনি ঐ অফিসের কোন স্টাফ নন। আসলে তিনি একজন প্রকৃত দালাল। আশরাফ আলীর মতো আরো রয়েছেন লম্বু কাজল, মহুবর, সুলতান, বাবলু, সাদেকুর, সবুজ, সুমন, রাজু (ইন্স্যুরেন্স) প্রমুখ। 

মোটরযান পরিদর্শকের নেতৃত্বে এই দালালচক্র প্রতি মাসে বিভিন্নভাবে প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ লক্ষ টাকার অবৈধ বাণিজ্য করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে  এক বা দুইবার কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা হয়ে থাকে। হাজার হাজার লার্নার পরীক্ষার্থী থাকলেও, শুধুমাত্র তারাই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারেন বা রোল নম্বর পান, যারা টাকা পয়সা লেনদেন করেন। টাকা পয়সা লেনদেন হলে অনেকে পরীক্ষার হলে না গিয়েও ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করে থাকেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএ অফিসের অনেকেই জানান নতুন মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দিতে হয় মোটরযান পরিদর্শককে। মাইক্রোবাস, মিনিবাস, নাইট কোচ, গাড়ীর ফিটনেস পরিদর্শন না করেই পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। দালাল আশরাফকে সাড়ে আট হাজার টাকা দিলে সবোর্চ্চ চার মাসের মধ্যে অরিজিনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়। আর যদি কেউ নিজেই ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চান তাহলে তিন বছরেও লাইসেন্স পাবেন না বলে আশরাপ আলী জানান। কুড়িগ্রাম বিআরটিএ অফিস দালাল চক্র বেস্টিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের যানবাহনের মালিকেরা নানা ভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। 

মোঃ রফিকুল ইসলাম নামক একজন ভুক্তভোগী জানান, ২০১৮ইং সালের ১৮ জুন তার মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তিনি ১৪ জুন ২০১৮ তারিখে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সরকারি কোষাগারে ২ হাজার ৪২৯ টাকা জমা করেন ও অতিরিক্ত ফি প্রদান করে অফিসে ছবি তোলেন। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে দেয়ার কথা থাকলেও অদ্যবধি লাইসেন্স পাননি।

আরেক ভুক্তভোগী শ্রী ভক্ত কুমার জানান, তিনি ৩ বছর আগে একটি টিভিএস মোটর সাইকেল ক্রয় করেছেন এবং এই মোটরসাইকেলটির লাইসেন্স করার জন্য অফিসে গেলে তার কাছে ৩ বছরের জরিমানা বাবদ তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত দাবি করায় তিনি লাইসেন্সটি করতে পাচ্ছেন না। 

মোটরযান অধ্যাদেশে বিভিন্ন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, তিনি উপস্থিত না হয়ে তার নির্দেশক্রমে উপস্থিত রাখেন দালাল আশরাফ আলীকে বলে অভিযোগে জানা গেছে। সব মিলে কুড়িগ্রামের বিআরটিএর দালাল চক্রের দাপটে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন যানবাহনের মালিকগণ ও সেবা গ্রহিতারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। 

অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়ে মোবাইলে কথা হলে মোটরযান পরিদর্শক মাহবুবার রহমান জানান, "অতিরিক্ত টাকা আমরা নেই না।" তিনি দালাল চক্রের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার না করে বলেন তারা আমাদের রাজস্বের কোন স্টাফ নন। আশরাফ নামে কাউকে চেনেন না এবং তার অফিসে সরকারি স্টাফ ছাড়া আর কোন দালাল নেই। এ বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। এর এক মিনিট পরেই দালালের মূল হোতা আশরাফ আলী তার নিজস্ব অন্য একটি মোবাইল থেকে ফোন করে দেখা করার আকুতি জানান। 

সব মিলে বিআরটিএ অফিসের দালাল চক্রের দাপটে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন যান বাহনের মালিকগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব কুড়িগ্রাম বিআরটিএ অফিস দুর্নীতি এবং দালালমুক্ত করা যায় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট  সকল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কুড়িগ্রামবাসী। 

রেডিওটুডে নিউজ/ইকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের