বুধবার,

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বুধবার,

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Radio Today News

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলে চীনা যুবক

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:৫৮, ৩১ মে ২০২৬

Google News
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলে চীনা যুবক

কথায় আছে, ‘প্রেম মানে না কোনো বাধা, মানে না কোনো দেশ-কালের সীমানা’। সেই চিরন্তন সত্যকে আরও একবার প্রমাণ করে ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছুটে এসেছেন ৩২ বছর বয়সী চীনা নাগরিক ওয়াং ইউলাই। উদ্দেশ্য একটাই—মন দেওয়া-নেওয়া হওয়া ২০ বছরের বাংলাদেশি তরুণী আনিকা আক্তারকে বিয়ে করে ঘর বাঁধা।

শনিবার (৩০ মে) মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেনের বাড়িতে এসে হাজির হন এই চীনা যুবক। ওয়াং ইউলাই চীনের রাঙ্গগুই প্রদেশের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ওয়ার্ল্ড টক’ অ্যাপের মাধ্যমে আনিকা ও ওয়াং ইউলাইয়ের পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘ সাত মাস অনলাইনের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রেমপর্ব চালানোর পর অবশেষে ভালোবাসার মানুষকে বাস্তবে পেতে এক মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে পা রাখেন এই চীনা শিক্ষক।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ওয়াং ইউলাই বলেন, আমি আনিকাকে মন থেকে ভালোবাসি। তাকে বিয়ে করে সুখে-শান্তিতে সংসার করতে চাই। বাংলাদেশে এসে ওর পরিবারের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা অতুলনীয়। আমি বাংলাদেশের আইন মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আনিকাকে বিয়ে করব। বিয়ে শেষে ওকে নিয়ে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।

কিছু অসাধু চক্রের কারণে চীনা নাগরিকদের প্রতি তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা নিয়ে তিনি বলেন, চীনা নাগরিক পরিচয়ে অনেক সময় কিছু প্রতারক বাংলাদেশিদের সঙ্গে জালিয়াতি করে বা মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়ায়। তবে চীনের আইন অত্যন্ত কঠোর। আমি সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে আইনি প্রক্রিয়া মেনে বিয়ে করে আনিকাকে আমার দেশে নিয়ে যেতে চাই।

এদিকে স্বপ্নের রাজপুত্রকে বাস্তবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত আনিকা আক্তারও। তিনি বলেন, অনলাইনে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্কটা অনেক মজবুত হয়। এখন আমরা বিয়ের মাধ্যমে আমাদের ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে যাচ্ছি।

চীনা যুবকের পাকুল্যা গ্রামে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন বিদেশি জামাইকে এক নজর দেখার জন্য।

এদিকে রোববার (৩১ মে) দুপুরে আনিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মির্জাপুর থানায় যান ওয়াং ইউলাই। সেখানে তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ বিষয়ে ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারা থানায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। চীনা নাগরিক তার পাসপোর্ট প্রদর্শন করেছেন। বিয়ে বা অন্য কোনো বিষয়ে তাদের যদি কোনো আইনি সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তবে পুলিশ প্রশাসন সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/radio4to0da9y/public_html/details.php on line 536