প্রাথমিকে বদলির কমিটি থেকে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বাদ, যুক্ত হলো ৭ শর্ত

শনিবার,

১৮ জুলাই ২০২৬,

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

শনিবার,

১৮ জুলাই ২০২৬,

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

প্রাথমিকে বদলির কমিটি থেকে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বাদ, যুক্ত হলো ৭ শর্ত

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:১৯, ১৮ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২০:২২, ১৮ জুলাই ২০২৬

Google News
প্রাথমিকে বদলির কমিটি থেকে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বাদ, যুক্ত হলো ৭ শর্ত

ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বদলি কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিতর্কিত বিধান বাতিল করে, তার পরিবর্তে ‘বিদ্যোৎসাহী’ বা ‘শিক্ষানুরাগী’ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের বদলি কমিটির নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে যোগ করা হয়েছে সাতটি নতুন শর্ত, যা ভবিষ্যতে বদলি প্রক্রিয়াকে আরও সুনির্দিষ্ট করবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়। এর আগে গত ২১ জুন শিক্ষক বদলি ও পদায়নের জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—এই চার স্তরের কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়। তবে অনলাইন পদ্ধতির পরিবর্তে প্রচলিত ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া এবং কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দেয়।

সমালোচনার মূল কারণ ছিল, ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকা। এতে বদলির মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বাইরের দলীয় ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা, স্বচ্ছতার পরিবর্তে তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

কমিটিতে নতুন প্রতিনিধিত্ব

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী- উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে দু’জন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন।

আগের মতোই বিভাগীয় কমিটির সভাপতি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা বা থানা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

জাতীয় পর্যায়ের কমিটিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে জাতীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়), আর সদস্যসচিব হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)। এর আগে, জাতীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

বদলিতে যুক্ত হলো সাতটি নতুন শর্ত

সংশোধিত নীতিমালায় শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে সাতটি নির্দিষ্ট শর্ত সংযোজন করা হয়েছে। প্রথমত, কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকার চাকরির মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ না হলে তিনি বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আবার একবার বদলি হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে পুনরায় বদলির আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

দ্বিতীয়ত, কেবল শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক বদলি করা যাবে।

তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের আবেদন ছাড়া তাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থ বা প্রশাসনিক প্রয়োজন হলে জাতীয় কমিটির অনুমোদন নিয়ে বদলি করা যাবে।

চতুর্থত, যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত আছেন অথবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষককে বদলি করা যাবে না।

পঞ্চমত, একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ষষ্ঠত, একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে সংযুক্তি পদায়ন করা যাবে।

সপ্তমত, সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাদের স্থায়ী ঠিকানা অথবা স্বামীর কর্মস্থল বা স্থায়ী ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আগের নিয়ম বহাল থাকছে যেসব ক্ষেত্রে

সংশোধিত নীতিমালায় আগের বেশ কয়েকটি বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—চার স্তরের কমিটিই বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করবে। একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে আদেশ জারি হবে। আর আন্তঃবিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন এলাকার বদলির আবেদন জাতীয় কমিটি বিবেচনা করবে।

এ ছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্ব জেলা কমিটির ওপরই বহাল রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় বিতর্ক কমবে এবং আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের