শুক্রবার,

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,

২ আশ্বিন ১৪২৮

পরীক্ষামূলক প্রকাশ

শুক্রবার,

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,

২ আশ্বিন ১৪২৮

Radio Today News

এক মাসেই ১৭ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার ৪৭৯

অভিনব কৌশলে ঢুকছে ইয়াবা, ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৮:১৩, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ১১:২২, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

অভিনব কৌশলে ঢুকছে ইয়াবা, ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে

ইয়াবা, ফাইল ছবি

অভিনব কৌশলে দেশে ইয়াবা আনা হচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ, কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশী ইয়াবা ঢুকছে। পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার থেকে সড়ক, রেল ও বিমানযোগে প্রথমে ঢাকায় ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। ঢাকা থেকে সারাদেশে মাদক পাচার ও কেনাবেচা হচ্ছে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের তথ্য মতে, মাদক হলো সব অপরাধের মূল। মাদক যেখানে আছে সেখানে অবৈধ অস্ত্র, চোরাচালানী, মানব পাচার, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

তথ্য মতে, শুধু গত আগস্ট মাসে র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৫১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট  উদ্ধার করেছে। যার মুল্য প্রায় ৫২ কোটি টাকা। এ সব ঘটনায়  ৪৭৯জনকে গ্রেফতার করেছে। উল্লেখযোগ্য অভিযানের মধ্যে গত ৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আন্তজেলা মাদক ব্যবসাযী চক্রের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে  ১৬ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ইয়াবা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৩শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট  র‌্যাব-৩ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১জনকে গ্রেফতার করছে। ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগে একটি ট্রাক জব্দ করা  হয়েছে।

গত ১৩ ও ১৪ আগস্ট  র‌্যাব-৭, চট্রগ্রামের  কর্ণফুলী, বাকলিয়া, চট্রগ্রাম জেলার আনোয়ারা এবং সীতাকুন্ড  এলাকাং পৃথক  অভিযান চালিয়ে  ৯ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ২৯ হাজার ৪৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করছে। আর মাদক পরিবহনের অভিযোগে একটি ট্রাক, ১টি পিকআপ ও ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। গত ১৮ আগস্ট  র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজার ৩৩০পিস ইয়াবাসহ ১জনকে আটক করেছে। গত ৩- আগস্ট র‌্যাব-১০ রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, মাতুয়াইল, ও রায়েরবাগে অভিযান চালিয়ে ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৮৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে একটি কার্গো ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদেরকে জানান, ইয়াবা সাধারণত পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে সমুদ্র পথে প্রথমে কক্সবাজার আনা হয়। এরপর নানাভাবে সড়ক ,রেল ও বিমান পথে ঢাকায় পৌঁছে। পরবর্তীতে কুরিয়ার সার্ভিসসহ নানা কৌশলে সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পাঠানো হয়। মাদক প্রতিরোধে র‌্যাব সদস্যরা একের পর অভিযান অব্যাহত রাখছে বলে তিনি জানান। মাদকের কারণে অপরাধ বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন। 

শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাপ্ত আর্মড পুলিশ অনেক বিমানযাত্রীর দেহ তল্লাশি করে বিভিন্ন সময় প্রায় ২ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট  উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ৭৪টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। দিন দিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে।

আর্মড পুলিশের তথ্য মতে, মাদক ব্যবসায়ী চক্র পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট কক্সবাজার থেকে বিমান যোগে ঢাকায় আনে। এরপর বিমান বন্দর থেকে টার্গেটকৃত ব্যক্তির কাছে পৌছে দেয়। এমন আগাম তথ্যের ভিত্তিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাপ্ত আমর্ড পুলিশ বিভিন্ন সময় সন্দেহভাজনদের আটক করে বিভিন্ন সময় ২১টি চালান ইয়াবা উদ্ধার করছে।  

গত ১৪ জুন সর্বশেষ চালান উদ্ধার করা হয়েছে। ওইসব চালানে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। বিমান বন্দরের আমর্ড পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত ১৪ জুন রাত ৮টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কনকোর্স হল এলাকায় সন্দেহভাজনভাবে ঘোরাফেরার সময় শহিদুল্লাহ নামে কক্সবাজারের বাহারছড়ার এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে তার পেটে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার পেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় দুই হাজার ৬শ সত্তর পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য ৮ লাখ এক হাজার টাকা।

গত ২২ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনাল থেকে সন্দেহভাজনভাবে ঘোরাফেরার সময় মোঃ রাকিব হোসেন নামে  এক ব্যক্তিকে আমর্ড পুলিশ আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার সঙ্গে মাদক থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করে আচারের ভিতর স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৯ হাজার ৮শ ৮৫ পিন ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। যার মূল প্রায় ২৪ লাখ ৭১ হাজার  ২৫০ টাকা। পরে মাদকসহ তাকে বিমান বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গত ১৩ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের পাবলিক টয়লেটের সামনে সন্দেহভাজনভাবে ঘোরাফেরার সময় সফিকুল আলম ও শাহজাহান মিয়া নামে টেকনাফের দুই  ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। এক পর্যায়ে তার পেটে ইয়াবা আছে বলে স্বীকার করে। পরে পেট থেকে টেপ দিয়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৪ হাজার ৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। আর শাহজাহান মিয়ার কাছ থেকে ৩৯৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করছে। উদ্ধারকৃত মোট ৭৯৯০ পিস ইয়ার মূল্য প্রায় ২৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

গত ৩০ জানুয়ারি  শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে অস্বাভাবিক ও সন্দেহভাজনভাবে ঘোরাফেরার সময় মোঃ মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ২ হাজার ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট  উদ্ধার করছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

এভাবে ২০২০ সালে ৩টি ইয়াবার চালান ও ২০১৯ সালে ৯টি ইয়াবার চালান জব্দ করেছে। প্রতিটি চালানে অভিযুক্ত এক থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী জড়িত। প্রতি ঘটনায় বিমান বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়াও এর আগেও বিভিন্ন সময় বিমান বন্দরে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের চালান আটক করা হয়েছে।  প্রতিটি ইয়াবার চালান উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পেটের ভিতর ইয়াবার চালান বহন করলে ধরা পড়ে না । এ কারণে পাচারকারী চক্র পেটের ভিতর ইয়াবার চালান আনছে।

জানা গেছে, মাদক পাচারকারী চক্র টাকার বিনিময়ে ইয়াবার প্যাকেট পেটের ভিতর বিশেষ কায়দায় বহন করে। আবার কেউ কেউ পায়ূপথে ইয়াবার প্যাকেট বহন করে। ট্যাবলেট পেটে যাতে না গলে তার জন্য ওষুধ সেবন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরর প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ সাহা সাংবাদিকদেরকে জানান, অধিদপ্তরের উদ্যোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে  মাদক শনাক্ত করার আধুনিক ড্রাগ স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি হয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। এটা খুবই দরকার। একটি মেশিনের দাম ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এটা থাকলে সহজেই মাদক শনাক্ত করা সম্ভব। এতে বিমান যোগে মাদক আনা বন্ধ হবে। আর মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই ধরা পড়বে।

রেডিওটুডে নিউজ/এসআই

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের